মেইন ম্যেনু

আন্দোলন ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসাবে আ’লীগ

ঈদের পর বিএনপির ঘোষিত সরকার পতনের আন্দোলন ঠেকাতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র সতর্ক পাহারা বসাবে ১৪ দলের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

সুত্রটি জানায়, বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া সম্প্রতি দলীয় ও জোটের একাধিক ইফতার পাটিতে অংশ নিয়ে বলেছেন, “ঈদের পর সরকার পতনের লক্ষ্যে দেশের সকল পেশাশ্রেণির মানুষকে আন্দোলনে নামতে হবে এবং তাদের পতন ঘটাতে হবে।”
অপরদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “শুধু শহরকেন্দ্রিক আন্দোলন নয়, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঈদের পর সরকার বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্য এই আন্দোলন। এবারের আন্দোলনের উত্তাল তরঙ্গে সরকার ভেসে যাবে।”
বিরোধী জোটের এ হুঁশিয়ারির পর পরই নড়েচড়ে বসে নিস্ক্রিয় থাকা সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো। বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের জবাবে সরকারি দলের নেতারা বলেছেন, আন্দোলন প্রতিরোধ করতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার ফ্লেক্সিলোডই যথেষ্ট।
এছাড়াও দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত হতে নির্দেশনা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। সংসদের ভেতরে-বাইরে কোথাও না থাকা সাবেক বিরোধী দল বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলন কতটা চাঙ্গা করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও একেবারে প্রস্তুতিশূন্য থাকতে চায় না আওয়ামী লীগ।
এ নিয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, “বিএনপি যাতে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। বিএনপির আন্দোলনের বার্তা তৃণমূলে না পৌঁছলেও ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে সেই আন্দোলন প্রতিহতে আওয়ামী লীগ থেকে সতর্ক নির্দেশনা পৌঁছে গেছে।”
বিএনপি আন্দোলনের ডাক নিয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, “ঈদের পরে বিএনপির আন্দোলন দেখার জন্য বসে আছি। আমাদের নেতারা সবাই পরীক্ষিত। কে ঢাকার কোন এলাকায় নেতৃত্ব দেবে, তা আগেই ঠিক করে রাখা হচ্ছে। বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলায় আমরা সব সময় প্রস্তুত।”
ক্ষমতাসীন দলটির সূত্র জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা নেতাদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নৈরাজ্য প্রতিরোধে স্থানীয় নেতাদের বিশেষ কমিটি গঠনের তাগিদ দেন। তা ছাড়া ঈদ-পরবর্তী বিএনপির আন্দোলনের সময় ঢাকার পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসানোরও নির্দেশনাও দেওয়া হয় ওই বৈঠকে।
মহল্লার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিএনপির মিছিল-মিটিং প্রতিহতের কথাও বলা হয়েছে সেদিন। ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে সারা দেশের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম নেতারা সম্পৃক্ত থাকবে। তা ছাড়া বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আন্দোলন-সহিংসতার কৌশল জানার চেষ্টা করছে দলটি। সেই অনুযায়ী প্রশাসন ও রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনের মোকাবিলার ছক করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।
এদিকে বিএনপির ৫ জানুয়ারির আগে ঘোষিত হার্ডলাইনের আন্দোলনের নেতিয়ে পড়া অবস্থা দেখে আওয়ামী লীগের অনেকেই এই হুমকিকে আমলেই নিচ্ছেন না। তাদের মতে, আন্দোলনে যাওয়ার মতো সাংগঠনিক অবস্থায় নেই বিএনপি। তা ছাড়া দলটির অধিকাংশ নেতা হামলা-মামলার আতঙ্কেও আছেন।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের পরিস্থিতিতে দেশ ফিরে যাক, আওয়ামী লীগ তা কোনোভাবেই চায় না। তাই আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি ও তার মিত্রদের সহিংস হয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে নির্বাচন-পূর্ব হেফাজত, বিএনপি ও জামায়াতের তাণ্ডবের কথাটি মাথায় রেখেই বিরোধী জোটের আন্দোলন মোকাবিলার কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে। আন্দোলনের মাঠে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রশাসনের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকেই তা মোকাবিলা করবেন।






মন্তব্য চালু নেই