মেইন ম্যেনু

আজ ভয়াল ২৫ মে : আইলার ৭ বছর

আজও আশ্রয়হীন ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের হাজার হাজার পরিবার

মোঃ বদরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা : আজ ভয়াল ২৫ মে। ছয় বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ মে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘুর্নিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট সর্বনাশা “আইলা” আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকুলীয় জনপদে। মুহুর্তের মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি উপজেলার উপকুলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪-১৫ ফুট উচ্চতায় সমুদ্রের পানি এসে নিমিষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষ, হাজার হাজার গবাদী পশু আর ঘরবাড়ি । ক্ষণিকের মধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়ে লাখো পরিবার ।

লক্ষ লক্ষ হেক্টর চিংড়ি আর ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় উপকুল রক্ষা বাঁধ আর অসংখ্য ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সর্বনাশা “আইলা”র আঘাতে শুধু সাতক্ষীরায় নিহত হয় ৭৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু আর আহত হয় দুই শতাধিক মানুষ। প্রলংয়করী আইলা আঘাত আনার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও উপকুলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর ও আশশুনির প্রতাপনগর এলাকায় মানুষের হাহাকার এতটুকু থামেনি। দু‘মুঠো ভাতের জন্য জীবনের সাথে রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে তাদের।

আইলার পর থেকে এসব এলাকায় সুপেয় পানি সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খাবার পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল। আইলা কবলিত এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট এখনও ঠিকমত মেরামত হয়নি। ফলে উচ্চ বিত্ত থেকে শুরু করে নিম্মবিত্ত সবাই চালাচ্ছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত আইলা কবলিত এ বিশাল জনপদে খুবইকম সংখ্যক সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

আইলা’র ভয়াবহতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে বসবাসরত মানুষের চোখে মুখে এখনও ভয়ংকর সেই স্মৃতি। আইলায় চার কিঃমিঃ ব্যাপী পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ঠাকরুনতলা সড়কটি ধ্বসে পড়ে। ধ্বসে পড়ে গড়কুমারপুর রাস্তাটিও। আইলার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এ রাস্তা দু’টি এখনও মেরামত না হওয়ায় চাউলখালী গ্রাম ও কালিতলা গুচ্ছগ্রামের দু’শতাধিক পরিবার জনবিচ্ছিন্ন। নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা। আইলার আঘাতের পর থেকে গোটা এলাকা উদ্ভীদ শুন্য হয়ে পড়ে।

কৃষি ফসল ও চিংড়ী উৎপাদন বন্ধ থাকায় গোটা এলাকাজুড়ে তীব্র কর্মসংস্থানের সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মহীন মানুষ অনেকেই এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে বাইরে চলে গেছে। অপরদিকে, বনদস্যুদের অত্যাচারে সুন্দরবন, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর উপর নির্ভরশীল এ এলাকার মানুষের জীবন যাপন দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে। ফলে বিকল্প কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারছেননা উপকুলীয় এ জনপদের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। আইলার পরপরই কিছু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাজের বিনিময় খাদ্য প্রকল্পের কাজ হলেও এখন আর কোনো কাজ হচ্ছে না। আর এ কারনেই ক্রমে ক্রমে বাড়ছে দরিদ্র ও হত দরিদ্রের সংখ্যা।

এদিকে, আইলার ছয় বছর অতিবাহিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকুল রক্ষা বেড়িবাঁধগুলোর ভয়াবহ ফাঁটল দেখা দেয়ায় এবং সংস্কার না করায় সামান্য ঝড় কিম্বা বৃষ্টিতে ঝূঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে এ জনপদের কয়েক লাখ মানুষের। তাই উপকুলীয় এ জনপদের মানুষের সরকােেরর কাছে দাবী টেকসই উপকুল রক্ষা বেড়ি বাধ নির্মান ও বেকার জনগোষ্ঠির কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা।

আইলা বিধ্বস্ত শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জি.এম মাসুদুল আলম জানান, দুর্গত এলাকায় এখনও নানা সমস্যায় জর্জরিত। খাবার পানির তীব্র সংকট। আইলায় মিষ্টি পানির আধার গুলো সব নষ্ট হয়ে গেছে। আজও পুকুর বা জলাশয় খনন করে মিষ্টি পানি সংরক্ষনের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এলাকায় কাজ নেই। বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর নোনা পানি না চিংড়ি ঘেরে উঠতে দেয়া হচ্ছে না। বিধায় চিংড়ি হচ্ছে না।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান জানান, বেড়িবাঁধ, সুপেয় পানিসহ যে সব সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের জন্য সরকার ও বেসরকারী সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নদী ভাঙ্গন বা বেড়িবাঁধ গুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার করার জন্য ইতিমধ্যে উদ্ধর্তন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই