মেইন ম্যেনু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আগুনে সবুজ প্রকৃতি পুড়িয়ে বেড়েই চলেছে কুচক্রী মহলের দৌরাত্ম্য

শাহিনুর রহমান শাহিন: “গতকাল দুপুরে সুইজারল্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখলাম আগুন জ্বলছে। ছাই আর আগুনে পুরো এলাকার খুবই বিশ্রী অবস্থা। পরিচ্ছন্নতার নামে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট করছে অসাধু পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। প্রশাসনের এইদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
প্রায় দেড় মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল মজুমদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসইবুকে এমনি কথা লিখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার লেখার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট করার বিষয়টি। যেন প্রশাসনের সামনে সব ঘটছে কিন্তুু সব দেখেও না দেখার ভান করে আছেন তারা।
এভাবে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সিহাব উদ্দিন লিখেছিলেন ‘খুবই মর্মাহত হই! আগুন লাগিয়ে এ কোন ধরনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা? কতো জীবের বাসস্থান তো নষ্ট হচ্ছেই পাশা পাশি তাদের পড়িয়ে মারা হচ্ছে। মোঃ আবিরুল ইসলাম আবির নামের আর এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছিলেন ‘প্রতিবছরের মতো এ বছরও খেয়ালখুশি মতো ধ্বংস চলছে জীববৈচিত্র্য, যেন দেখার কেউ নেই। ’
শুধু শাকিল মজুমদার এবং আবিরুল ইসলামে কিংবা শিহাব উদ্দিন নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক- শিক্ষার্থী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন কেন এই প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আগুনে পুড়িয়ে ধধংস করা হচ্ছে?
বলছি প্রাকৃতিক সৌন্দের্যের লীলাভূমি নয়নাভিরাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজপ্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ধধংসের কথা। বাংলাদেশের অপার সবুজ সৌন্দর্যে ঘেরা যে কয়েকটি জায়গা রয়েছে তার মধ্যে দৃষ্টিনন্দন অন্যতম জায়গা হলো সবুজ প্রকৃতির লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। অতিথি পাখি, প্রজাপতি, লাল, নীল শাপলা, কাঠবিড়ালি, বেজি, সাপ, পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে গাছ-গাছালির বিচারণ আর বাহারি রঙের ফুলের প্রাকৃতিক পরিবেশ এই জাহাঙ্গীরনগর।
সবুজপ্রকৃতি বলতে যা বোঝায় তার সবটুকু রয়েছে এই ক্যাম্পাসে। প্রতিদিন প্রকৃতিপ্রেমী হাজারো দর্শনার্থীদের আগমনে মুখরিত থাকে এই ক্যাম্পাস। সবুজ প্রকৃতিতে আছন্ন এই ক্যাম্পাসের খ্যাতি রয়েছে সারা দেশে।
কিন্তুু দিনের পর দিন প্রাকৃতিক পরিবেশ পুড়িয়ে নষ্ট করার ফলে সবুজপ্রকৃতি তার খ্যাতি আজ হারাতে বসেছে। প্রতিবছরের মতো এবছরেও একটি অসাধু কুচক্রী মহল ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ সবুজ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধধংসের পায়তারায় নেমেছে।
ফলে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠ সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ ধধংসের মুখে পড়েছে। প্রশাসনের সামনে এসব ঘটছে কিন্তুু সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের। যেন দেখার কেউ নাই প্রাকৃতিক পরিবেশ ধংসলীলার। ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জাবির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
খোজঁ নিয়ে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের রবীন্দ্রনাথ হল সংলগ্ন, সুইমিং পুল সংলগ্ন, মীর মশাররফ হল সংলগ্ন, কেন্দ্রীয় গ্রন’াগার সংলগ্ন এলাকা এবং সুইজারল্যান্ড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিশাল এলাকা জুড়ে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সবুজপ্রকৃতির।
প্রতিবছর বিভিন্ন ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার নামে আগুন দিয়ে পরিবেশ ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছেন একদল অসাধু পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ, সবুজপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য। এ নিয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে একাধিক খবর প্রকাশ করা হলেও থেমে নেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য। বেড়েই চলেছে তাদের খামখেয়ালীপনা। এদিকে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেই কোনো ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট শাখার কয়েকজন কর্মচারী ‘পরিষ্কার’-এর নামে দায়িত্ব অবহেলা করে আগুন দিয়েই প্রাকৃতিক পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য পুড়িয়ে ফেলছেন। এদিকে সবুজপ্রকৃতি পুড়ে ছাই হয়ে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়লেও এ বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না বিশ্ববিদ্যালয় স্টেট অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নুরুল আমিন। তিনি বলেন, ‘বনজঙ্গল পুড়লে আমি কী করব? কোথাও এ ধরনের কোনো খবর পেলে আমরা যতটুকু পাই ততটুকু বন্ধ করার চেষ্টা করি। ’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, “যে বা যারা এ ধরনের কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে জরুরী ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ”






মন্তব্য চালু নেই