মেইন ম্যেনু

অভিজিৎ হত্যার দুই বছর : আজও তৈরি হয়নি চার্জশিট

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আদালতে এখনো অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিতে পারেনি মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রায়ই গণমাধ্যমে জানিয়ে আসছেন, অভিজিৎ হত্যায় জড়িতরা চিহ্নিত। শিগগিরই এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দেয়া হবে। গত দুই বছরে এমন বুলি একাধিকবার আওড়িয়েছেন পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। কিন্তু তাদের মুখের কথা মুখেই রয়ে গেছে।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন এলাকায় অভিজিৎ রায়কে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় অভিজিতের স্ত্রী বন্যাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার পর অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বাদী হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে শাহবাগ থানায় মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করতে ঢাকায় আসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে আটক ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবী এবং অনন্ত বিজয় দাস খুনের আসামি মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহীর বিরুদ্ধেও অভিজিৎ হত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া অভিজিৎ হত্যার পর পুলিশ গণমাধ্যমে একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। সেখানে অভিজিৎ ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে অনুসরণকারী হিসেবে এক যুবককে চিহ্নিত করে বলা হয়, এই যুবকই মুকুল। তাকেসহ ছয়জনকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে ডিবি। এরপর মুকুল পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

অভিজিৎ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান বলেন, ‘এই হত্যা মামলার রহস্য আমাদের কাছে পরিষ্কার। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা সাংগঠনিক নাম ব্যবহার করেছিল। তাদেরকে আমরা চিহ্নিত করেছি। তবে এখনো তাদের প্রকৃত নাম জানতে পারিনি। তাদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা পেলেই মামলার চার্জশিট জমা দেয়া হবে।’

এদিকে গত ৩১ জানুয়ারি বইমেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছিলেন, খুব শিগগিরই অভিজিৎ হত্যা মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। এ মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা ছাড়াও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মূল আসামি মুকুল রানা গত বছরের ১৯ জুন ভোরে খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বাঁশপট্টি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার ছয়জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য এফবি আই ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে ‘ক্রসম্যাচ’ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ক্রসম্যাচ প্রতিবেদন ডিবির হাতে এসে পৌঁছায়নি। আগের আলামতের ডিএনএ রিপোর্টের সঙ্গে সন্দেহভাজন আট আসামির মধ্যে যার ডিএনএ নমুনা মিলে যাবে, তিনিই অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের আসামি হবে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

তবে কবে নাগাদ এই হত্যার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়া হবে, এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেনি ডিবি। গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন- ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমান, সাদেক আলী, আমিনুল মল্লিক, জুলহাস বিশ্বাস, আবুল বাশার ও জাফরান হাসানের মধ্যে কেউ সরাসরি অভিজিৎ হত্যাকান্ডে অংশ নিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ পুলিশের।






মন্তব্য চালু নেই