মেইন ম্যেনু

অব্যাহতি পেলেন লিমন, পা দেবে কে?

দীর্ঘ আড়াই পর বছর পর অবশেষে র‌্যাবের দ্বিতীয় মামলা থেকেও অব্যাহতি পেলেন কথিত বন্দুকযুদ্ধে ঝালকাঠির পা হারানো লিমন হোসেন।

লিমন অব্যাহতি পেয়েছে তবে হারিয়েছেন পা, যা তিনি আর কোনো দিন ফিরে পাবেন না। সারাজীবন তাকে পঙ্গুত্ব বরণ করে জ্বালা বয়ে বেড়াতে হবে সেটাই বৃহস্পতিবার অব্যাহতির পর বাংলামেইলকে জানালেন তরুণ লিমন।

লিমন হোসেন বলেন, ‘আমি যে নির্দোষ, তা প্রমাণ হয়েছে। আমি প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম আমি নির্দোষ। রাষ্ট্রিয় যে বাহিনী আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছে, আমার লেখাপড়াসহ ভবিষ্যৎ জীবনের দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। যারা আমাকে পঙ্গু করেছে তাদের বিচার আমি পাইনি। রাষ্ট্রের কাছে আমি দোষী র‌্যাব সদস্যদের বিচার দাবি করছি।’

বিচার চাইলেন লিমনের মা হেনোয়ারা বেগমও। তিনি তার ছেলে পঙ্গু হওয়ার পেছনে দায়ী র‌্যাব সদস্যদের বিচার চান সরকারের কাছে।

তিনি বলেন, ‘এখন তার পঙ্গু ছেলেকে আর আদালতে কষ্ট করে হাজিরা দিতে হবে না।’

চার্জ গঠনের শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে সরকারি কাজে বাধাদান মামলায় র‌্যাবের করা প্রত্যাহারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঝালকাঠি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু শামিম আজাদ এ অব্যাহতির আদেশ দেন। এ সময় লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই ঝালকাঠির বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক কিরণ শংকর হালদার অস্ত্র আইনের মামলার দায় থেকে তাকে অব্যহতির আদেশ দেন।

তার বিরুদ্ধে র‌্যারেব দায়ের করা সরকারি কাজে বাধা দানের মামলা ও অস্ত্র আইনের মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ায় এখন তিনি মুক্ত। তার বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ রইল না।

লিমনের আইনজীবী আক্কাস সিকদার জানান, গত ৯ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক আদেশে লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আড়াই বছর পর অস্ত্র মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পেলেও দীর্ঘদিন ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মুখ্য বিচারিক পদ শূন্য থাকায় সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগের মামলার দায় থেকে অব্যাহতিতে বিলম্ব হয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ র‌্যাবের কথিত বন্ধুকযুদ্ধে রাজাপুরের কলেজ ছাত্র লিমন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পর বরিশালে র‌্যাব-৮-এর তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) লুৎফর রহমান বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে এবং সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে লিমনসহ আটজনের বিরুদ্ধে রাজাপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন।






মন্তব্য চালু নেই