মেইন ম্যেনু

অবৈধ রিকশায় যানজট বৃদ্ধি

সিলেট নগরীতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে রিকশা। যার মধ্যে বৈধ রিকশার চেয়ে অবৈধ রিকশার সংখ্যাই বেশি। দিন দিন কেবল তা বৃদ্ধিই পাচ্ছে। যে কারণে নগরীতে যানজট সমস্যা বেড়েই চলছে। এতে সাধারণ লোকজন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এদিকে, নগরীতে রিকশা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে রিকশা চালানোর নিয়ম থাকলেও তা মানছে না কেউ। তবে অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরীতে প্রায় ৪০ হাজার রিকশা রয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স আছে ২৪ হাজার ১৩১টি রিকশার। বাকি রিকশাগুলো অবৈধ।

রিকশা চালকদের দাবি, ১৮৩ টাকার রেজিস্ট্রেশন নম্বর পেতে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা লাগে। তাই প্রতিদিন বাড়ছে অবৈধ রিকশার সংখ্যা। এ সমস্যা নিরসনে প্রশাসনের নেই কোনো উদ্যোগ।

তবে বাড়তি রোজগারের আশায় দেশের অন্যান্য জেলা থেকে শ্রমিকরা সিলেটে আসেন। সারা দিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করেন, তা নিয়ে রাতে ফিরে যান তারা। এ কারণে শহরে রিকশার সংখ্যা অনেক বেশি।

শহরবাসীর অভিযোগ, নিয়মনীতি না থাকা, দীর্ঘদিন থেকে রিকশার লাইসেন্স না দেয়া ও অবৈধ রিকশা আটক অভিযান কার্যকর না করার কারণে শহরে এসব অবৈধ রিকশার পরিমাণ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রিকশা জটে থমকে আছে সারা নগরী, আর এ চিত্র প্রতিদিনের।

তবে এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন লাইসেন্স অফিসার চন্দন দাস বলেন, ‘অবৈধ রিকশা চিহ্নিত করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যে নগরীতে মাইকিং করা হয়েছে। বৈধ রিকশার পেছনে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত রং লাগানোর জন্য বলা হয়েছে। আর যদি লাইসেন্স ছাড়া কোনো রিকশায় রং করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি রিকশা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স সম্পর্কে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী নগরীতে রিকশা চালাতে হলে প্রত্যেকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হয়। কিন্তু কয়জন এই লাইসেন্স নিয়ে রিকশা চালায়। বেশিরভাগ ড্রাইভারই লাইসেন্স ছাড়া রিকশা চালায়।’

তবে কতজন রিকশাচালাক সিটি করপোরেশন থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি জানি না।’

সিলেট নগরীর একাধিক রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ, গাইবান্ধা, রংপুর, কুঁড়িগ্রাম, বরিশাল, নোয়াখালী, ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। তারা কাজের সন্ধানে সিলেটে এসে অন্য কাজ না পেয়ে রিকশা চালান।

কাজিটোলা এলাকার রিকশাচালক মনির বলেন, ‘সারা দিন রিকশা চালিয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করি। মহাজনকে ১০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা নিয়ে রাতে বাড়ি ফিরি।’

মোহাম্মদ নামের আরেকজন জানান, তার বাড়ি রংপুরে। আগে তিনি একটি দোকানের কর্মচারি ছিলেন। বেতন পেতেন তিন হাজার টাকা। এখন রিকশা চালান। তাতে মাসে আয় হয় ছয় হাজার টাকা।

এদিকে, নগরীতে অবৈধ রিকশা প্রবেশের কারণে প্রতিদিন যানজট লেগেই আছে। শহরবাসী ভুগছে চরম ভোগান্তিতে। নষ্ট হচ্ছে তাদের মূল্যবান সময়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ সকল অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটাই এখন প্রধান দাবি শহরবাসীর।






মন্তব্য চালু নেই