মেইন ম্যেনু

অনেক সাধের সিনেমা

প্রথম থেকেই শোনা যাচ্ছিলো দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া রাজ্জাক-কবরী অভিনীত ‘ময়নামতি’ ছবিটি রিমেক করতে যাচ্ছে। কিন্তু মুক্তির আগ মুহুর্তে এসে জানা গেল এটা ‘ময়নামতি’র রিমেক নয়। বরং ১৯৬৯ সালে কাজী জহির কর্তৃক নির্মিত ছবিটির নতুন আঙ্গিক বলা যেতে পারে।

অনেক সাধের ময়না ছবিটির শুরুতেই সবার চোখ আটকে যাবে সবুজ ধানখেঁত আর আঁকাবাঁকা মেঠোপথ দেখে। কারণ এখনকার চলচ্চিত্রে ভালো লোকেশন বলতে বুঝায় থাইল্যান্ড, ব্যাংকক কিংবা মালয়েশিয়া। অথচ পরিচালক পুরো ছবিটির চিত্রধারণ করেছেন ভোলা জেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে। ছবির শুরতে দেখা যাবে সবুজ ধানখেঁতের মাঝখানে একটি টিনের তৈরি পাত্র ঝুলছে। আর সেটার সঙ্গে একটি সুঁতো বাধা। সুঁতোর অপর প্রান্ত ধরে একটু পরপর টানছে এক গ্রাম্য মেয়ে। এটি মূলত কাঁকতাড়ুয়া। যার সঙ্গে শহুরে জীবনে অভ্যস্থ অনেকেরই পরিচয় নেই।

চিত্রনায়িকার মাহির ‘অগ্নি’ রূপ দেখে যারা অ্যাকশন গার্ল নামকরণ করেছিলেন, এই ছবিতে মাহির গ্রাম্যরূপ দেখে তারা ভড়কে যেতে পারেন। কারণ পুরো ছবিতেই মাহিকে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখা গিয়েছে। তবে শুরুতে যে ধরণের শাড়ি তিনি গায়ে জড়িয়ে ছিলেন, তার সঙ্গে চৌধুরী বাড়ির বউ হবার পর পার্থক্য থাকাটা বাঞ্চনীয় ছিল। অন্যদিকে বিদেশ থেকে লোখাপড়া শেষ করে বাপ্পি যখন বাড়ি ফিরছিল, স্বাভাবিক ভাবেই তার গায়ে ছিল শহুরে পোশাক। কিন্তু সেটা শীতকালীন পোশাক, অথচ মাথার উপর কড়া রোদ। পরিচালক আরেকটু দৃষ্টি দিলেই এ ধরনের ভুলগুলো এড়ানো সম্ভব ছিল। তবে আনিসুর রহমান মিলন ও আলী রাজের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করার কোন সুযোগ নেই। ছবির শেষপ্রান্তে মাহিকে চৌধুরী সাহেবের হাত থেকে উদ্ধার করার জন্যে অভিনেতা মিলন যখন রাম-দা হাতে ছুঁটে যাচ্ছিলেন, তখন দর্শকদের অনেকেই হাত তালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন। প্রেমিকা উদ্ধার অভিযানে যাবার সময় পায়ে স্যান্ডেল পরার কথা ভুলে যাননি তিনি। এটা কি পরিচালকের ইচ্ছা, নাকি অভিনেতার ইচ্ছার প্রতিফলন?
বাংলা চলচ্চিত্রের গল্পে অসঙ্গতি থাকবে না এটা এখনই আশা করা ভুল। তেমনই এই ছবির একটা বিষয়ই দর্শকদের ভাবিয়ে তুলবে। তাহলো কাহিনীর এক পর্যায়ে চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে মাহির বিয়ে হচ্ছিলো দিনের আলোতে। অথচ আনিসুর রহমান মিলনকে তার বন্ধুরা রাতের আধাঁরে ঘরে আটকে রেখেছিল। এছাড়া একই গ্রামে থাকার পরও ভালোবাসার মানুষটির বিয়ের খবর মিলনের কানে পৌঁছাতে অনেক সময় নিয়েছেন পরিচালক।

এ ছবিতে আনিসুর রহমান মিলনের অভিনয় দেখলে সবার ধারণাই পাল্টে যাবে। ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই সরল রেখায় অভিনয় করে গিয়েছেন ছোটপর্দার এই অভিনেতা। ছবি শেষে তাই দর্শকদের মনেই হতে পারে ছবির নায়ক বাপ্পি নয় মিলন। বিশেষ করে ছবির শেষ দৃশ্যে আদালত কর্তৃক মিলনের রায় ঘোষণার পর সাধারণ দর্শক চোখে পানি ধরে রাখতে পারবেন না। এর মূল কারিগর অভিনেতা মিলন। অন্যদিকে চিত্রনায়িকা মাহি তার অভিনয়ের কিছুটা উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে বাপ্পি অনেকাংশেই ন্যাকামির পরিচয় দিয়েছেন। যদিও বাপ্পির চরিত্রটিই এমন।

উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের গানের ভূমিকা অনেক। কিন্তু সাম্প্রতিক কালের ছবিগুলো দেখলে মনে হয়, গান কোন বিষয় নয়। কিন্তু পরিচালক এই ছবিতে প্রত্যেকটি গানকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। ছবিতে সংগীত পরিচালনা করেছেন ইমন সাহা ও শফিক তুহিন। তবে ‘আমার এ প্রাণ বলেছে, আমার এ মন বলেছে’ ও ‘এদিকে ওদিকে’ শিরোনামের গান দুটি দর্শকের কণ্ঠে অনেক দিন বেঁচে থাকবে বলেই মনে হয়। তাছাড়া গানের চিত্রায়ণও ছিল দেখার মতো। আলী রাজ তার স্বভাব সুলভ অভিনয় দিয়ে দর্মককে ধরে রাখতে পেরেছেন।

সবশেষে বলা যায়, গেল চল্লিশ বছরে দর্শকদের স্বাদ অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। তাই বলে ‘ময়নামতি’ ছবির গ্রহণযোগ্যতা এতটুকু কমে যায়নি। সেই ধারায় ‘অনেক সাধের ময়না’ অনেকাংশেই সফল।

চলচ্চিত্র: অনেক সাধের ময়না
পরিচালনায়: জাকির হোসেন রাজু

মুক্তি : ৭ নভেম্বর
অভিনয়ে: মাহিয়া মাহি, বাপ্পি চৌধুরী, আনিসুর রহমান মিলন, আলী রাজ প্রমুখ।
প্রযোজনা : চিত্রা ফিল্মস লি:
পরিবেশনায় : জাজ মাল্টিমিডিয়া



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই