মেইন ম্যেনু

অনলাইনেও ভোট দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে

এবার ইন্টারনেটের মাধ্যমেও ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এ সুযোগ শুধু নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য।

নিজ এলাকায় ভোটার হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীরা অন্য স্থানে দায়িত্বরত থাকায় ভোট দিতে পারেন না। যদিও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেয়ার বিধান আছে কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে এতে কেউ আগ্রহ দেখান না। এ কারণে অনলাইনে ভোট দেয়ার পদ্ধতির কথা ভাবছে (ইসি)। তারা হিসাব করে দেখেছেন, এ পদ্ধতি চালু হলে পাঁচ লক্ষাধিক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অনলাইন পদ্ধতি ছাড়াও বিশেষ ব্যবস্থায় ভোট গ্রহণেরও কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন বৈঠকে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলামের নির্দেশে ইসির এক উপ-সচিব এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন।

প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ওই উপ-সচিব বলেন, ‘ভোটগ্রহণের সময় তিন লক্ষাধিক লোক দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও সমপরিমান সদস্য নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্বপালন করেন। তাদের বাড়ি ভিন্ন ভিন্ন জেলায় হওয়ার কারণে অনেকেই ভোট দিতে ব্যর্থ হন। তাদের কথা চিন্তা করে নির্বাচন কমিশন অনলাইনে ভোট গ্রহণের চিন্তা করছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে এক জেলার ভিন্ন ভিন্ন ব্যালট পেপার অন্য জেলায় পাঠানো কঠিন কাজ। এতে মূল নির্বাচন পরিচালনা ব্যাহত হয়।’

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে ভোটদান ব্যবস্থায়- সারাদেশের জাতীয় সংসদের তিনশ আসনে ব্যালট পেপার অনলাইনে দেয়া থাকবে। প্রত্যেক সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যলয়ে অনলাইনে ভোটদানের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র/ভোটকক্ষ স্থাপন করা হবে। এমন ভোটকেন্দ্র বা ভোটকক্ষের জন্য প্রিজাইডিং অফিসারসহ পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হবে এবং এ কাজের জন্য ওই কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হবে।

প্রতিবেদনের আরো বলা হয়, নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটগ্রহণের দিনের অন্তত দুদিন আগে সুবিধামতো ও পূর্ব নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে ভোট দেয়া যাবে। কমিশনের আইটি বিভাগ এ বিষয়ে কারিগরি সহয়োগিতা করবে। যারা অনলাইনে ভোট দেবেন তাদের ভোট যেন ভোটকেন্দ্রে গ্রহণ করা না হয় সে ব্যাপারে নির্দেশনার ব্যবস্থা করে রাখতে হবে।

অন্যদিকে ‘বিশেষ ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণ’ প্রসঙ্গে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা ভোট দিতে আগ্রহী তাদের তিন ভাগে ভাগ করা হবে। প্রথমত: ওই সব কর্মকর্তা যে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন, তারা সেই এলাকার ভোটার। দ্বিতীয়ত: যারা যে নির্বাচনী এলাকায় (ভোটকেন্দ্র) দায়িত্ব পালন করবেন সেটি ব্যতীত ওই জেলার অন্য কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোটার। তৃতীয়ত: যারা যে জেলায় দায়িত্ব পালন করবেন সেই জেলা ব্যতীত অন্য জেলার ভোটার।

প্রথম দুটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সহাকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে একটি ভোটকেন্দ্র/ভোটকক্ষ স্থাপন করতে হবে এবং ভোটদানে ইচ্ছুক নির্বাচন কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট জেলার যে কোনো আসনে যাতে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জমাদি সহজলভ্য করতে হবে।

তৃতীয় ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ভোট দিতে চাইলে আগের বিধান মতো পোস্টাল ব্যালটেই ভোট দিতে পারবেন।

উভয় প্রস্তাবে গণপ্রতিনিধত্ব আদেশ (আরপিও) ও বিধান সংশোধন করতে হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। উভয় পদ্ধতিতে তুলনামূলক অল্প কিছু নির্বাচন কর্মকর্তার ভোটগ্রহণের জন্য মূল নির্বাচনী কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির উপ-সচিব পর্যায়ের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিশন যেটা চিন্তা করছে এটা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। তবে এটি বাস্তবায়ন হলে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীরাও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এটা অবশ্যই প্রসংশনীয় উদ্যোগ। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার বিধান থাকলেও তাতে অনেক জটিলতা রয়েছে।’






মন্তব্য চালু নেই