মেইন ম্যেনু

অছাত্র-বিবাহিতদের নিয়েই ফেনী ছাত্রদল

অছাত্র আর বিবাহিতদের শীর্ষ পদে রেখেই ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ফেনী জেলা কমিটি। টানা চার বছর রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে দলের জন্য জীবনবাজি রাখলেও কমিটিতে থাকার সুযোগ পাননি ত্যাগী ও যোগ্যরা।

এ নিয়ে ছাত্রদলের মূলধারার নেতাকর্মীরা বিকল্প কমিটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুব সহসাই সম্মেলন করে নতুন কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

দলীয় সূত্রমতে, ২০১১ সালে আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বিরকে সভাপতি ও নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাতকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্য বিশিষ্ট ফেনী ছাত্রদলের জেলা কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় সভাপতি-সম্পাদকের মধ্যে টানা পোড়েন। সভাপতি গ্রুপ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি সম্পাদককে।

এ ঘটনায় সভাপতি-সম্পাদক সমর্থকদের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুই পক্ষকে বারবার মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশ দেন। তবে সে নির্দেশ উপেক্ষা করেছে দুই পক্ষই।

নবগঠিত কমিটিতে সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাতকে সভাপতি, প্রচার সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মামুনকে সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কায়সার এলিনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে। কিন্তু এ তিনজনের কারোরই ছাত্রত্ব নেই। এর ওপর সভাপতি বরাত ও সিনিয়র সহ-সভাপতি এলিন দুজনই ছাত্রত্ব ত্যাগের পর বিয়ে করে রীতিমত সংসারী হয়েছেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ সভাপতি আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব নতুন এ কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। গত ৫ জুলাই কেদ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নবগঠিত কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে যারা বিকল্প কমিটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, সিনিয়র সহসভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি এসএম কায়সার এলিন, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূর হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের লিংকন, দেলোয়ার হোসেন দোলন, জিয়া উদ্দিন জিয়া, মোরশেদ উল্যাহ, মিল্লাত প্রমুখ।

এসব নেতা জানান, বরাত ও মামুন দুজনই মাদকসেবী। মহাসড়কে চুরি ডাকাতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মামুন বিবাহিত না হলেও অছাত্র ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। বহু আগে তার ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে।

ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মামুন বলেন, ‘যারা বর্তমান কমিটির বিরোধীতা করছে তারা কেউ সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে ছিলনা। পদ পেতে হলে দলের জন্য কাজ করতে হয়। মাঠে আমরা ছিলাম। তাই আমরাই কমিটিতে এসেছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে নবগঠিত কমিটির সভাপতি নঈম উল্যাহ চৌধুরী বরাতের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।






মন্তব্য চালু নেই