৮০০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে যে মসজিদ!

আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির কাছে তুর্কি স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত একটি নতুন মসজিদ কমপ্লেক্স উদ্বোধন করলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগান। শনিবার (২ এপ্রিল) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুরস্কের পতাকা নিয়ে সমবেত হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। তারা স্লোগান দেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমরা আপনার জন্য গর্বিত।’

অনুষ্ঠানটি আরও মাহাত্ম্য পেতো। কারণ জোর গুঞ্জন ছিলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে সঙ্গে নিয়ে এরদোগান মসজিদটি উদ্বোধন করবেন। কিন্তু সেটা আর হলো না।অবশেষে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন মসজিদ উদ্বোধন করেন। খবর এনডিটিভি ও ইউএসএ টুডে’র।

ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠ ম্যারিল্যান্ডে দিয়ানেত ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নামে মসজিদ কমপ্লেক্সটি তুরস্কের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে।নির্মিত কমপ্লেক্সে একটি মসজিদ, একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, একটি প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ নানান সুবিধা রয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।

মসজিদ উদ্বোধন শেষে এরদোগান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সেন্টারটি বিশ্বব্যাপী ইসলামের সত্যিকার বাণী প্রচারের একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে এবং মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সভ্যতার সংঘাত মোকাবেলায় কাজ করবে। তিনি মনে করেন, ইসলাম সম্পর্কে জানতে আমেরিকানরা এই দিয়ানেত সেন্টারকে ব্যবহার করবে।

মসজিদ উদ্বোধনের সময় এরদোগান ধর্মের অবমাননাকারীদের সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা মুসলিমদের টার্গেট করছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের ওপর হামলা বাড়ছে। তুরস্কে আমরা ৩৫ বছর ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছি। কাজেই, দয়া আপনারা শুধু প্যারিস আর ব্রাসেলসে সন্ত্রাসবাদ পালন করবেন না, অন্য দেশের ক্ষেত্রেও করুন।

পরমাণু শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে ওয়াশিংটন সফরে রয়েছেন এরদোগান। এ সফরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠক করেন।সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে এরদোগান তার অবস্থান স্পষ্ট করে কুর্দিস্তান ওয়াকার্স পার্টি, ইসলামিক স্টেট, আল কায়েদা এবং আল শাবাবকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এরদোগানের ভাষ্য, এরা মুসলিম বিরোধী আওয়াজকে সাহায্য করছে। তারা ধর্মের লেবাস পরে বৈধতার ভান করলেও বেআইনি কার্যক্রমে জড়িত। তাদের সম্পর্কে সজাগ থাকার আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও কুসংস্কার থেকে বাঁচতে লোকজনকে নিজের এবং অপরের ধর্ম সম্পর্কে জানতে হবে।



মন্তব্য চালু নেই