৫ শর্ত মানলেই বিএনপির সঙ্গে সংলাপ!

বিএনপির সঙ্গে সংলাপ-সমঝোতার প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখান করলেও অপ্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ইতিবাচক চিন্তাভাবনাও করতে শুরু করেছে সরকার। সংলাপে বসতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে চাপ আরও তীব্র হলে কঠিনতম কিছু শর্ত পূরণসাপেক্ষে বিএনপিকে আলোচনার টেবিলে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে ভেতরে-ভেতরে মোটামুটি একমত হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা। কী-কী শর্ত দিয়ে বিএনপিকে সংলাপের আহ্বান জানানো হতে পারে, তা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ীই সংশ্লিষ্টরা শর্ত তৈরির কাজ করছেন বলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে আভাস মিলেছে।

তবে সূত্রগুলো এও জানিয়েছে, শর্তসাপেক্ষে বিএনপি সংলাপের আহ্বান জানানোর বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। পরিস্থিতি আরও গভীরভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলেই কেবল তিনি সংলাপ আহ্বান বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন। শুধু বিএনপির সঙ্গে সংলাপ না করে ‘জাতীয় সংলাপ’ ডেকে দেশের নির্বাচনী সংস্কারসহ আরও নানা বিষয়ে ‘মোটামুটি স্থায়ী’ সমাধানে পৌঁছতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও দলনিরপেক্ষ বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরুর বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর ভাবনায় রয়েছে।

সূত্রমতে, ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণে নিয়মিত-অনিয়মিত ভূমিকা রাখেন এমন কয়েকজন নেতা গত কয়েকদিনে অপ্রকাশ্যের প্রাথমিক আলোচনায় বিএনপিকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে যেসব শর্তারোপ বিষয়ে ভেবেছেন, তারমধ্যে শুরুতেই রয়েছে জামায়াতের সঙ্গত্যাগের শর্ত। কয়েকদিন আগে ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) বিএনপিকে জামায়াত সঙ্গত্যাগের আহ্বান জানায়। কাছাকাছি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসও তাদের সম্পাদকীয়তে বিএনপিকে সহিংসতা ও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার পরামর্শ দেয়।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, জামায়াত ছাড়ার শর্ত বিএনপিকে দিলে আন্তর্জাতিক সমর্থনও পাবে সরকার। সরকারপক্ষের তৈরি দ্বিতীয় শর্তে গুরুত্ব পাচ্ছে ২০-দলীয় জোটের আহ্বানে অবরোধসহ চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি নিঃশর্ত প্রত্যাহার। শর্তের আলোচনায় তৃতীয় স্থানে আছে চলমান আন্দোলনের নাশকতার দায় স্বীকার করে ২০-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা এবং যারা নাশকতা করেছেন তাদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করা। চতুর্থ শর্তে সরকারপক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা ইস্যু রাখতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই জাতীয় সংসদের একাদশতম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এই শর্ত মেনে নিয়ে নির্বাচনী আইন ও নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালীকরণে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে পারবে বিএনপি। পঞ্চম শর্তে একাত্তরের মানবতাবিরোধী বিচারের প্রতি বিএনপির আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করার বিষয়টি স্থান দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নন, কিন্তু সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও দলের নীতিনির্ধারণে সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বরিশাল অঞ্চলের এমন দু’জন প্রভাবশালী নেতা শর্তারোপ তৈরি বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন। ওই দুই নেতার সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নীতিনির্ধারণী নেতার কমবেশি যোগাযোগ রয়েছে। দু’সপ্তা আগে নাশকতা ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ওই নেতাদের একজন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের সঙ্গে ফোনালাপও করেছেন। অবরোধ প্রত্যাহার ও জামায়াতসঙ্গ ত্যাগ করে বিএনপির পক্ষ থেকে সংলাপের আহ্বান জানানো হলে সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করতে পারে বলে মওদুদকে জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করারও পরামর্শ দেওয়া হয় মওদুদকে। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন এমন প্রস্তাব নিয়ে গেলে সন্দেহের চোখে মূল্যায়ন করতে পারেন, এমন সম্ভাবনার কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতার অপ্রকাশ্যের প্রস্তাব অপ্রকাশ্যেই ফিরিয়ে দেন মওদুদ।

সূত্র আরও জানায়, আপাতত ৫টি শর্ত নিয়ে ভাবা হলেও সংলাপ প্রস্তাব দেওয়ার আগে আরও কিছু শর্ত যোগ করার বিষয়েও ভাবছে সরকারের নীতিনির্ধারকরা। আমাদেরসময়



মন্তব্য চালু নেই