হাসিনার এক ফোনেই এরশাদের স্বপ্নভঙ্গ!

প্রধানমন্ত্রীর দূত হিসেবে অফিস ও জনবল পেলেও ছয় মাসে কোনো দায়িত্ব পাননি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এমনকি দূত হিসেবে কোনো দেশও তার সফর করা হয়নি। তবে নিজের চিকিৎসা ও ছেলে এরিককে স্কুলে ভর্তির খোঁজ-খবর নিতে ভারতে যাওয়ার কথা ছিল এরশাদের। রোববার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ভারতের উদ্দেশে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন এমনটাই নিশ্চিত ছিল।

কিন্তু এ যাত্রায় ভারত যাওয়া হয়নি এরশাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ফোনই তার স্বপ্ন ভেঙে যায়। জাতীয় পার্টির বিশ্বস্ত সূত্র এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছেন। যদিও পার্টির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এরশাদের হঠাৎ ‘অসুস্থতা’র কারণে এ সফর বাতিল করা হয়েছে।

পার্টি সূত্র জানায়, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিশেষ দূত এরশাদকে ফোন করেন। এ সময় এরশাদ তার বারিধারার বাসায় ভারত সফরের সব প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফোন করেই প্রথমেই তার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে হাসিনা তাকে ভারত না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এ কথা শুনার পরপরই এরশাদ কিছুটা সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান। তবে পরক্ষণই স্বাভাবিক হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এসময় এরশাদকে জানান, এই মুহূর্তে তিনি লন্ডনে যাচ্ছেন। পাশাপাশি এরশাদও যদি ভারত সফরে যান তবে বিরোধীরা ফাঁকা মাঠ পাবে। প্রধানমন্ত্রী ও এরশাদের অনুপস্থিতিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল দেশকে উত্তাল করতে পারে। কেননা তারা ইতোমধ্যেই ঈদের পর আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছে। এসব আশঙ্কা থেকেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ভারত সফর বাতিল করতে অনুরোধ করেন বলে জানা যায়।

শেখ হাসিনা অবশ্য এরশাদকে ঈদের পর ভারত যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমি লন্ডন থেকে আসি তারপর আপনি ভারত সফর করেন।’ প্রধানমন্ত্রীর এ অনুরোধ রাখতেই এরশাদ তার ভারত সফর বাতিল করেন। পরে রাত ১১টার দিকে বিষয়টি পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুকে জানান এরশাদের ব্যক্তিগত সহকারী মেজর (অব.) খালেদ আখতার।

জানা গেছে, বিষয়টি অন্যদিকে ঘুরানোর জন্য রোববার সকালে এরশাদ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যান। পরে দুপুরে তিনি তার বারিধারার বাসায় ফিরে আসেন। এরপরই পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয় অসুস্থতার জন্যই এরশাদের ভারত সফর বাতিল করা হয়েছে।

তবে এরশাদের ভারত সফর বাতিলের বিষয়টিকে সরকারের চাপ বলেই দেখছেন পার্টির নেতারা। তারা মনে করছেন, এ সফরের মাধ্যমে বিজেপি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এরশাদের সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। ফলে সরকার চাপের মুখে পড়তে পারে। অবশেষে মধ্যবর্তী নির্বাচনও দিতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরশাদকে ভারত সফর বাতিল করতে বাধ্য করেছেন।

নেতারা আরো মনে করছেন, হাসিনা খুব কৌশলী হওয়ায় তার লন্ডন সফরকে দেখিয়ে এরশাদকে ভারত যেতে অনুরোধ করেছেন। কারণ সাবেক বিরোধী দল বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তেমন কোনো জনপ্রিয়তা নেই। জনগণ তাদের ‍দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এ করাণে জাতীয় পার্টিকেই আওয়ামী লীগের যত ভয়!

এরশাদের হঠাৎ ভারত সফর বাতিলের বিষয়টি জানতে চাইলে পার্টির যুগ্ম-দপ্তর সম্পাদক আবু আহসান আহমেদ জুয়েল জানান, এরশাদ তার ভারত সফর বাতিল করেছেন। হঠাৎ অসুস্থতার কারণেই এ সফর বাতিল করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘স্যার (এরশাদ) তার অসুস্থতার জন্যই ভারতে যাচ্ছেন না। চিকিৎসকই তাকে এই মুহূর্তে ভারত না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’

এদিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতে সফররত এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার সাথে সাক্ষাতের কথা চাওড় হওয়ায় বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদও শনিবার রাতে এরশাদকে ফোন করে ভারতে যেতে নিষেধ করেন।



মন্তব্য চালু নেই