সেই ওসিকে বদলি

রাজশাহী: রাজশাহী বোয়ালিয়া মডেল থানার আলোচিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনকে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আলমগীর হোসেনকে আরএমপি থেকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। সহিংসতাকে পুঁজি করে ব্যাপক আটক ও গ্রেপ্তার বাণিজ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে, যুগান্তরের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আনু মোস্তফা, দৈনিক প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম ও চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ক্যামেরা পারসন রায়হানুল হকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দিলেও রহস্যজনক কারণে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীর সর্বস্তরের সাংবাদিকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আরএমপির উপ-কমিশনার (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরী ওসি আলমগীরের বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, ওসি আলমগীরকে বদলির আদেশ তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। তাকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশের সূত্রগুলো জানায়, ওসি আলমগীর জানুয়ারিতে যোগদানের পর বোয়ালিয়া মডেল থানা এলাকার সাধারণ ছাত্র ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে মামলায় জড়িয়ে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। তার আটক ও গ্রেপ্তার বাণিজ্যের কারণে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলমগীরের গ্রেপ্তার বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশিত হলে সাংবাদিক আনু মোস্তফাসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানো ও পুলিশের ওপর হামলার একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। পরে সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন ওসির অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নামে।

অবশেষে ওসি আলমগীরের গ্রেপ্তার বাণিজ্যের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি সাময়িক বরখাস্তসহ আলমগীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। তবে গত দেড় মাসেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

অবশেষে আলমগীর হোসেনকে আরএমপি থেকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করা হলো।



মন্তব্য চালু নেই