সাবেক এমপি, পেট চলে অন্যের বাড়ি কাজ করে

কথায় আছে গরিব মানুষের আবার রাজনীতি কি? রাজনীতি করলে পেট চলবে কী করে? ওসব বড়লোকদের কাজ। আর এমপি-মন্ত্রী, সে তো একে বাড়েই ওপরওয়ালা নয় তো ক্ষমতাবানদের কাজ। তারা রাজনীতি ছেড়ে দিলেও যে কোনো কষ্টে থাকে না, সেটা দেখতেই মোটামুটিভাবে আমরা অভ্যস্ত।

তবে ব্যতিক্রম ভারতের কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় বিধানসভার একসময়ের এমপি (বিধায়ক) বাকিলা টুকরপ্পা। তার দৈনিক উপার্জন মাত্র ৪০ টাকা। তাও কোদাল হাতে মাঠে নামতে হয় তাকে। পরিশ্রম করেই এ ক’টা টাকা উপার্জন করেন তিনি।

১৯৮৩ সালে রাজনীতিতে পা রাখেন। দক্ষিণ কন্নড়ের সুলিয়া তালুক বিধানসভা থেকে বিজেপির হয়ে লড়ে কংগ্রেস প্রার্থীকে পরাজিত করেন তিনি। মাত্র ১৮ মাস বিধায়ক পদে ছিলেন কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ভালো কাজ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি তার ওই অল্প সময়ে দুটি কলেজ, পাঁচটি হাইস্কুল, চারটি হোস্টেল, সেতু ও তিনটি রাস্তা তৈরি করেছিলেন। পরে তিনি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানও হন। কিন্তু আচমকাই ছেড়ে দেন রাজনীতি। শুরু করেন খেটে খাওয়ার জীবন।

বাকিলা টুকরপ্পার নিজের বাড়ি পর্যন্ত নেই। গত ২১ বছর ধরে তার ঠিকানা স্ত্রীর বাপের বাড়ি। শুধু তাই নয়, আজও পেট চালানোর জন্য ৪০ টাকা উপার্জনের আশায় বাড়ি থেকে বের হতে হয় তাকে।

অথচ তার জায়গায় যিনি বিধায়ক হয়েছিলেন তার সম্পত্তির পরিমাণ শুনলে তাক লেগে যাবে। সেই বিধায়কের রয়েছে নিজস্ব বাংলো, ৪০ একর জমি ও স্ত্রীর নামে একটি পেট্রল পাম্প।



মন্তব্য চালু নেই