শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের নারীরা আজ শক্ত অবস্থানে

রাজপথ কাঁপানো নেত্রীরা বলছেন, এখন তারা উন্নয়নের নতুন সংগ্রামে রয়েছে। আর শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং প্রজ্ঞার কারণেই বাংলাদেশের নারীরা আজ শক্ত অবস্থানে আসতে পেরেছে।তারা বলছেন, শেখ হাসিনার দূরদর্শী ভাবনার করণেই আজ নারীরা সমাজের বিভিন্ন অঙ্গণে দক্ষতার ছাপ রাখছে। বিশ্বেরও উচিত শেখ হাসিনার প্রদত্ত মডেল নিয়ে গবেষণা করা। তাতে করে অনুন্নত বিশ্ব যেমন হবে উপকৃত, উন্নত বিশ্বের জন্যেও হবে শিক্ষনীয়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম বলেন: ‘আমরা একটু পেছনে তাকালে দেখবো, আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশে নারীর কি আমূল পরিবর্তন এসেছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে, শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টির কারণে। ৯৬’এ ক্ষমতায় এসেই তিনি নারীকে সম্পদে পরিণত করার কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তার গৃহীত একটি বাড়ি এটি খামার প্রকল্প গ্রামীন নারীকে দিয়েছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। এছাড়াও নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ণে তার গৃহীত পদক্ষেপের সুফল এখন পাচ্ছে সমগ্র দেশ।’

মাহমুদা বেগমের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন: ‘৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে নারীর সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরী করেন। এর আওতায় নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ণের জন্য প্রত্যেকটি স্হানীয় নির্বাচনে তিনটি করে সংরক্ষিত আসন সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। এর ফলে দেখা গেলো, ৪৫ হাজার নারী নেতৃত্ব বেরিয়ে আসলো। এই প্রক্রিয়াটি নারীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার একটি মডেল।

পরবর্তীতে দেখা গেলো, যারা নারী সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছিলো- সে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছে আবার উপজেলা চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছে। বিশ্ব যদি এটা নিয়ে গবেষণা করে তাহলে অনুন্নত দেশগুলো যে উপকৃত হয়ে ঠিক তেমনই উন্নত দেশগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিন্টনের উদাহরণ তুলে ধরেন। আমরা মিডিয়াতেও দেখেছি নারী হওয়ার কারণে তাকে কিভাবে হেয় হতে হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নারী ক্ষমতায়ণের দর্শনটি যদি আমরা ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে দেখবো, শুধু বাংলাদেশেই নয় সমগ্র বিশ্বে সামাজিক-রাজনৈতিক-শিক্ষা সব ক্ষেত্রে নারী এগিয়ে যাবে।’

সামজিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে সমাজে নারীর অবস্থান। চার দেয়ালে বন্দি নারী আজ ভূমিকা রাখছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে। রাজনৈতিক অঙ্গণেও রয়েছে নারীর দৃপ্ত দপচারণা। রাষ্ট্রপরিচালনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গণে নারী রেখে চলেছে তার দক্ষতার ছাপ। ঘরে কি ঘরের বাইরে সবখানেই রয়েছে নারীর সমান অংশ গ্রহণ।

বর্তমান সরকার নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে মাহমুদা বেগম বলেন: দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কোনো ভাবেই আমাদের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শেখ হাসিনার সরকার গ্রামীণ পর্যায়ে নারীর অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনায়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। যার সুফল এ দেশের নারীরা এরই মধ্যে পেতে শুরু করেছে। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখে। একজন নারী যখন অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল হয় তখন সমাজও তাকে সমীহ’র দৃষ্টিতে দেখে।

এ প্রসঙ্গে অপু উকিল বলেন: আমাদের ১৬ কোটি মানুষের অর্ধেকই নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠকে বাদ রেখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানব সম্পদের উন্নয়নের কথা বলেছে। প্রধানমন্ত্রীর এ ইচ্ছার বাস্তব রূপ দিতে হলে অবশ্যই নারীর উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সম্পদে পরিণত করতে হলে শিক্ষার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীদের গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত লেখাপড়ার খরচ সম্পূর্ণ ফ্রি করে দিয়েছে। এসবে একটাই কারণ নারীদের মানব সম্পদে পরিণত করা। নারী তথা মানব সম্পদের উন্নয়ন হলেই আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে জায়গা করে নিতে পারবো। শেখ হাসিনার যে দর্শন, বিশ্বে নারীকে এগিয়ে নিতে আমার মনে হয় সকলের উচিৎ এটা অনুসরণ করা।

বিশ্ব নারী দিবসকে সামনে রেখে তাদের প্রত্যাশা, ‘আগামী দিনে নারীকে সমাজ যেনো নারী হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে দেখতে শেখে। সেই সঙ্গে সমাজের কাছে তাদের প্রত্যাশা নারীকে নারী হিসেবে নয় সমাজ তাদেরকে মানুষ হিসেবে দেখুন।’



মন্তব্য চালু নেই