রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডি : আজও ঝুলে আছে বিচার

রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডির দুই বছর পূর্ণ হলো। এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা চিহ্নিত হলেও সরকারি মঞ্জুরি আদেশের অভাবে চার্জশিট দিতে না পারায় ঝুলে আছে মামলাটির প্রত্যাশিত বিচার কাজ। অথচ প্রায় ৬ মাস আগে তদন্ত শেষে হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর শুরু সরকারি আদেশের অপেক্ষায় আছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানাপ্লাজা ভবন ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত এবং আহত হয় প্রায় ২ হাজার। এদের বেশিরভাগই পোশাক শ্রমিক।

ওই ঘটনায় ৩টি মামলা হয়। ৩টি মামলার মধ্যে একটি করে পুলিশ। পুলিশের মামলায় ত্রুটিপূর্ণ জেনেও শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার অভিযোগে, সরাসরি হত্যার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলী আক্তার এবং অপর মামলাটি বিল্ডিং কোর্ড অনুসরণ না করার অভিযোগে দায়ের করে ইমারত আইনের রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

৩টি মামলার মধ্যে পুলিশের এবং নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীরে স্ত্রী শিউলী আক্তার মামলা ২টির একসঙ্গে তদন্ত হয়েছে। অপর মামলাটি আলাদা তদন্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর বলেন, পুলিশের এবং নিহত শ্রমীক জাহাঙ্গীরে স্ত্রী শিউলী আক্তার মামলায় ৪২ ও রাজউকের ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট চূড়ান্ত। আসামিদের মধ্যে ১৩ জন সরকারি কর্মকর্তারা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের জন্য সরকারি মঞ্জুরি আদেশ প্রয়োজন। কয়েকজনের মঞ্জুরি আদেশ পাওয়া গেলেও অধিকাংশ এখানো বাকি। তাই তিনি আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারছেন না।

মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার ২১ আসামির মধ্যে রানাপ্লাজার মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ওরফে খালেক কুলুসহ ৯ জন জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

জামিন পাওয়া অপর ৮ জন হলেন- পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ ও কমিশনার মোহাম্মাদ আলী, ইমতেমাম হোসেন, রাকিবুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম, বজলুস সামাদ, মাহমুদুর রহমান তাপস ও আনিসুর রহমান। রানা প্লাজার মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানাসহ বাকী ১২ জন জেলহাজতে রয়েছেন।

চার্জশিটে অভিযুক্ত হতে যাচ্ছেন এমন সরকারি কর্মকর্তারা হচ্ছেন- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সাভারের পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পৌর কমিশনার মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম রাসেল, সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত কল-কারখানা অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক বেলায়েত হোসেন ও মাহমুদ জামশেদুর রহমান এবং উপ-মহাপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম ও ইউসুফ আলী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কবির হোসেন সরকার, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় ও রাজউকের সাভার উপজেলার ইমারত পরিদর্শক আওলাদ হোসেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসক অফিসে রক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, রানাপ্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত এবং ১ হাজার ১১৭ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যায়। মৃত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮৪৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা রেখে ২৯১ জনের অশনাক্তকৃত লাশ জুরাইন কবরস্থানে
দাফন করা হয়। কিন্তু সেই কবরস্থানে ডিএনএ কোডনম্বরগুলোও বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেছে।

জীবিত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১ হাজার ৫২৪ জন আহত হন। তদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ৭৮ জন।

বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় করা রানা প্লাজার ৫০টি ছবি দেখুন



মন্তব্য চালু নেই