যেভাবে ১০ দিনে ঘাড় ও হাঁটুর ব্যথা কমে!

অনেক দিন ধরেই ঘাড়, পিঠ ও হাঁটু যন্ত্রণায় ভুগছেন? এমন অবস্থায় কোনো কাজই ঠিক মতো করতে পারছেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাড়ের যন্ত্রণাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে যেমন: ঘাড়ের অংশটুকু সারভাইক্যাল স্পাইন, পিঠের অংশকে থোরাসিক স্পাইন, কোমরের অংশকে লাম্বার স্পাইন ও কোমরের নিচের অংশকে সেকরাল স্পাইন বলে।

মেরুদণ্ড সবচেয়ে বেশি নড়াচড়া হয় দুইটি অংশে ঘাড় বা সারভাইক্যাল স্পাইন এবং কোমর বা লাম্বার স্পাইন। যেহেতু সারভাইক্যাল স্পাইনে মুভমেন্ট বা নড়াচড়া বেশি হয়, ফলে মেরুদণ্ডের এ অংশে হাড়ের ক্ষয়ও বেশি হয়ে থাকে। ঘাড়ের মেরুদণ্ডের এ ক্ষয় হয়ে যাওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সারভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস বলা হয়।

আর হাঁটুর ক্ষয় জনিত সমস্যাকে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা অস্থিসন্ধির ক্ষয়জনিত রোগ বলা হয়। আমাদের অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট এক ধরনের নরম কাভার দিয়ে আবৃত থাকে যাকে মেডিকেলের ভাষায় কারটিলেজ হাড় বলে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুর ব্যবহারের ফলে কারটিলেজগুলো ক্ষয় হতে থাকে, জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির মার্জিন অমসৃণ হয়ে জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির গ্যাপ কমে যায়। ফলে জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি নাড়াচাড়া করতে ব্যথা অনুভূত হয় এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিস বিভিন্ন জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে হতে পারে।

গুরুতর না হলে এ ধরনের যন্ত্রণা মাত্র ১০ দিনে কমাতে সাহায্য করে নুন এবং অলিভ অয়েল।

কি বিশ্বাস হচ্ছে না! ভুলে যাবেন না যখন আধুনিক ওষুধের আবিষ্কার হয়নি তখন এইসব ঘরোয়া উপায়েই নানা রোগের চিকিৎসা করা হতো, আর ফলও পাওয়া যেতো হাতেনাতে।

তাই ব্যথার যন্ত্রণা কমাতে নিম্নে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করা হলো :

লবণ : এতে রয়েছে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম, যা স্ট্রেস কমিয়ে শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। ফলে হাড় মজবুত হয় এবং যন্ত্রণা কমতে শুরু করে। সর্বোপরি শরীরে পানি জমা আটকাতে নুন দারুন কাজ করে।

অলিভ অয়েল : এই তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই ও কে আছে। এছাড়াও অলিভ ওয়েলের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ। এই তেল যে কোনও ধরনের প্রদাহ কমাতে দারুন কাজে আসে। তাই তো ব্যথার জায়গায় অলিভ অয়েল মালিশ করলে যন্ত্রণা কমতে শুরু করে।

কীভাবে এই দুটি উপকরণ মিলিয়ে ওষুধ তৈরি করবেন জেনে নিন :

১০ চামুচ ভাল মানের নুন ও ১২-১৫ চামুচ অলিভ অয়েল নিন। এই দুটি উপকরণ পরিমাণ মতো নিয়ে একটা কন্টেনারে মেশান। যখন দেখবেন নুন এবং অলিভ অয়েল ভালো করে মিশে গেছে, তখন কন্টেনারের মুখটা বন্ধ করে দিন।

২ দিন রেখে দিয়ে শরীরের যেখানে যেখানে ব্যথা আছে লাগান। দেখবেন নিমেষে কষ্ট কমে যাবে।

কীভাবে লাগাবেন এই মিশ্রণটি?

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অল্প করে এই মিশ্রণটি হাতে নিয়ে যন্ত্রণার স্থানে ২-৩ মিনিট ভালো করে মালিশ করুন। প্রতিদিন মালিশ করার সময়াটা বাড়ান। এমনটা করলে দেখবেন ১০ দিনের মধ্যেই যন্ত্রণা হাওয়া হয়ে যাবে। মাসাজের পর নরম টাওয়াল দিয়ে জায়গাটা মুছে ফেলতে ভুলবেন না কিন্তু।

সাবধানতা: এ মিশ্রণটি লাগানোর পর যদি দেখেন অ্যালার্জি বেরুচ্ছে তাহলে সেখানে অল্প করে বেবি পাউডার দিয়ে দিন। এটা করলে অ্যালার্জি কমে যাবে।



মন্তব্য চালু নেই