যশোরের শার্শায় মা’য়ের সামনে ছাত্রকে পিটালেন প্রধান শিক্ষক

জসিম উদ্দীন, বেনাপোল (যশোর) ॥ যশোরের শার্শায় মা’য়ের সামনে ১০ম শ্রেনীর এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে শার্শা মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষকের পিটানিতে প্রচন্ড অসুস্থ হওয়ায় ১৯ জুন বৃহস্পতিবার পরিক্ষায় অংশ নিতে পারেনি আহত জনি মিয়া (১৬)। সে শার্শার শ্যামলাগাছি গ্রামের উত্তর পাড়ার দিনমজুর ফারুক হোসেনের ছেলে। এক লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৫ জুন স্কুলের ৮ম শ্রেনীর একটি মেয়ে ক্লাসের ফাঁকে জনির সাথে অন্য একটি মেয়েকে নিয়ে কথা বলছিল। এই ঘটনায় ৮ম শ্রেনীতে পড়া মেয়েটি স্কুলের সহকারী শিক্ষক জয়দেব বাবুর নিকট জনির বিরুদ্ধে তাকে উত্যক্ত করার অভিযোগ করে। সেখানে জনির কোন কথা না শুনেই তাকে শিক্ষক জয়দেব বেদম ভাবে মারপিট করে। এরপর জনি ১৭জুন নির্দোষ প্রমান করতে তার মাকে নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলামের কাছে যান। প্রধান শিক্ষকের রুমে আগে থেকেই ৮ম শ্রেণীর ঐ ছাত্রীর পিতা বসে ছিলেন। সেখানে জনি ও তার মা কোন কিছু বলার আগেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম মা’য়ের সামনে তার ছেলেকে বাসের লাঠি দিয়ে বেদম ভাবে মারপিট করে আহত করে। সেখানে জনির মা’ কিছু বলতে চাইলে তাকে ছেলেকে শাসন করার জন্য হুমকি দেয় প্রধান শিক্ষক । অন্যথায় স্কুলের সভাপতি শার্শার এমপিকে দিয়ে তাদেরকে জেল খাটানো হবে বলে জানানো হয়। এ ঘটনার পর জনির মা ফাতেমা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে তার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে যান। এ ঘটনায় জনির বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে তাদের পরিনাম জনির মতই হবে বলে প্রধান শিক্ষক ছাত্রদের হুমকি দেন। সে কারনে ভয়ে ১৮ জুন দশম শ্রেনীর প্রায় ২০/২৫ জন ছাত্র স্কুলে যায়নি। সে থেকেই জনি অসুস্থ্য হয়ে বাড়িতে পড়ে আছে। স্কুলের কোন শিক্ষক তার খোঁজ খবর নেয়নি। আহত জনি বিনা অপরাধে শিক্ষকদের হাতে মারাত্বক আহত হওয়ায় ১৯ জুন পরিক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জনিকে মারার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, আমি একা মারেনি স্কুলের জয়দেব বাবু ও তাকে মেরেছে। জনিকে মারার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন স্কুলের এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার কারনে তাকে মারা হয়েছে বলে জানান। এ ব্যাপারে শার্শা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহেদুজ্জমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ মোতাবেক কোন শিক্ষক কোন শিক্ষার্থীকে মারতে পারবেনা বলে আইন করে দিয়েছে। সে মোতাবেক সরকারের আইন অমান্য করে ছাত্রকে মারা অপরাধ হয়েছে। তবে ছাত্রটি ভুল করলে উভয় পক্ষকে নিয়ে মিমাংসা করা ঠিক ছিল । এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য চালু নেই