মায়ের মৃত্যু দেখিয়ে জামিনের চেষ্টা, মামলা

স্বর্ণ চোরাচালানের একটি মামলায় মায়ের ভুয়া মৃত্যুর সনদ আদালতে দাখিল করে সজীব হোসেন নামে এক আসামির জামিন করানোর চেষ্টা করেছেন আইনজীবী। এ ঘটনায় বিচারকের নির্দেশে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী।
রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিমানবন্দর থানার ৫১(৯)১৪ নম্বর মামলায় এই ঘটনা ঘটেছে। পরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী কাজী মো. নূর আলম কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেন।
আদালতের তদন্তে মৃত্যু সনদটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ভুয়া মৃত্যুসনদ তৈরিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ওই আদালতের অবকাশকালীন বিচারক মো. রুহুল আমিন মামলার নির্দেশ দেন।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার রাজাপুর চরবক্তাবলী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে সজিব হোসেন (৩৫), গত ১৮ নভেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে বিমানযোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ওই বিমানযাত্রীর কাছে ১০০ গ্রাম ওজনের ৬টি স্বর্ণবার পায়। ওই অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়।
এ মামলায় গত ৯ ডিসেম্বর সিএমএম আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন। ওই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ৭৩৮১/১৪ নম্বর ফৌজদারি বিবিধ মামলা মূলে জামিনের আবেদন করা হলে ১৮ ডিসেম্বর শুনানির দিন ঠিক করা হয়।
গত ১৮ ডিসেম্বর জামিন শুনানির সময় মামলাটির আইনজীবী সন্ন্যাসীচরণ অমিত আসামি সজীব হোসেনের মা মারা গেছে মর্মে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক দেয়া একটি মৃত্যু সনদ দাখিল করেন।
ফতুল্লা থানার বক্তাবলী উনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত ওই মৃত্যুসনদে আসামি সজিব হোসেনের মা হনুফা বেগম গত ১৮ ডিসেম্বর সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
শুনানির সময় বিচারক মো. রুহুল আমিন ওই সনদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশে ঢাকা সিএমএম আদালতের প্রসিকিউশন পুলিশের সহকারী কমিশনার মিরাজউদ্দিন ফতুল্লা থানার ওসির মাধ্যমে চেয়ারম্যান শওকত আলীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন যে তিনি এ মৃত্যুসনদ দেননি।



মন্তব্য চালু নেই