মংলা বন্দরে ৮ বছর ধরে পড়ে আছে ৪ হাজার রিকন্ডিশন্ড গাড়ি

খালাস না করায় মংলা বন্দরে নষ্ট হচ্ছে আমদানি করা চার হাজার রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। আট বছর আগে এই গাড়িগুলো আমদানি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কর ফাঁকি দিতেই এতদিন পেরিয়ে গেলেও এগুলো খালাস করেননি আমদানিকারকরা।

মংলা বন্দরের কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কর ফাঁকি দিয়ে এগুলো খালাসের কোনও সুযোগ নেই। খালাস করতে হলে আমদানি করার সময় যে কর ছিল, তাই পরিশোধ করতে হবে।’

বুধবার (১৯ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, মংলা বন্দরে আমদানি করা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ মুহূর্তে বন্দরে ৪ হাজার ১৬৩ টি গাড়ি খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পার্কিংয়ের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি জেটিতে পড়ে থাকায় সেগুলো রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে রং ও ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারপরও এগুলো বাজারে প্রবেশ করলে সরকার একদিকে রাজস্ব হারাবে, অন্যদিকে ক্রেতারা নষ্ট গাড়ি কিনে পড়বেন বিপাকে।

মংলা বন্দরের আবহাওয়ায় লবনাক্ততা বেশি হওয়ায় কোনও গাড়ি দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে এর স্থায়িত্ব বা আয়ুস্কাল কমে যাবে।

বন্দর সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ৩ জুন জাপান থেকে আমদানি করা ২৫৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি মংলা বন্দর দিয়ে খালাসের মাধ্যমে প্রথম রেকর্ড গড়ে গাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হকস বে অটোমোবাইলস। তখন এ বন্দর দিয়ে গাড়ি খালাস প্রক্রিয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের আন্তরিক সহযোগিতা, খরচ চট্টগ্রামের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ হওয়ায় এবং শেডের ভেতরে নিরাপদে গাড়ি রাখার সুবিধা আমদানিকারকদের আকৃষ্ট করে। এসব সুবিধার কারণে হকস বে অটোমোবাইলসহ একাধিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ বন্দরের দিকে ঝুকে পড়ে। এরপর থেকে মংলা বন্দরে আমদানি ও গাড়ি খালাসের পরিমাণ বাড়তে খাকে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক পরিচালক মোস্তফা কামাল জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ৭৫ হাজার ২২৯টি গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। যার মধ্যে ৪ হাজার ১৬৩ টি গাড়ি খালাসের অপেক্ষায় বন্দর জেটিতে পড়ে আছে।

সর্বশেষ গতকাল ১৮ এপ্রিল এখান থেকে বিভিন্ন আমদানিকারকের ৪০টি গাড়ি খালাস করা হয়েছে। বর্তমানে বন্দরের শেডের ভেতরে এবং বাইরে খোলা আকাশের নিচে অরক্ষিত রয়েছে টয়োটা করোলা, টয়োটা এক্স করোলা, টয়োটা এলিয়ন, প্রাডো, এফ প্রিমিও, নোয়াহ, হায়েস, প্রবক্স, ও নিশান গাড়ি। এসব গাড়ির আমদানিকারক হচ্ছে হকস বে অটোমোবাইল, মরিয়ম এন্টারপ্রাইজ, অটো স্টোর, আজাদ ট্রেডিং, কার নেট, সালসাবিল ও কার সিলেকশন।

জালিয়াত চক্রের বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি করায় সংকটে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের চেয়ে বেশি পুরনো গাড়ি আমদানি করা নিষিদ্ধ হলেও এ আইনটি অমান্য করছে প্রভাবশালী কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তারা গাড়ির বয়স কম দেখিয়ে মংলা বন্দর দিয়ে তা আমদানি করছে।

অভিযোগ রয়েছে, আমদানি করা গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে নামানোর পর এক মাসের মধ্যে খালাস না করলে নিলামে তুলে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে নিয়ম মংলা বন্দরেও আছে, কিন্তু ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না।

মংলা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমদানিকারকরা যখন ট্যাক্স দিয়ে গাড়ি খালাস করে, তখন আমরা গাড়িটির ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পরীক্ষা করি। যদি অমিল পাই, তবে গাড়ি আটকে দিই। কোনওভাবেই ফাকি দেওয়ার সুযোগ নাই।’



মন্তব্য চালু নেই