বেরোবিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত : মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কর্নার স্থাপনের দাবি

বেরোবি প্রতিনিধি : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বুধবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় দমদমা বদ্ধভুমিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করেন। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, সাংবাদিক সমিতি, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, হল, দপ্তর ও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নিয়ে আলোচনার পর আলাদাভাবে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটির স্মরণে আলোচনা সভাসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানসূচির আয়োজন করে ।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপনের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও দিবসটি ভিন্নভাবে পালিত হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাফেটেরিয়া ভবনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ তাজুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. আর এম হাফিজুর রহমান, বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনা, প্রফেসর ড. নাজমুল হক, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট ড. আবু ছালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান প্রমুখ আলোচনা করেন।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের একমাত্র সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রংপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে একটি কর্ণার স্থাপনের দাবি জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ড. মোঃ গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও বেরোবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও তার তাৎপর্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপাস্থাপন করেন বেরোবি বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ (রিষিণ পরিমল)।

আলোচনায় অংশ নেন বেরোবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের (শিক্ষক) আহবায়ক অধ্যাপক ড. আর এম হাফিজুর রহমান, প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাবেক আহবায়ক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের (শিক্ষক) সদস্য সচিব মশিউর রহমান, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য এইচ. এম. তারিকুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ সাইদুর রহমান, ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক মোঃ আতাউর রহমান প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৪ এর পদার্থবিজ্ঞান গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হলে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে হলে সেগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রংপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে একটি কর্ণার স্থাপন করার দাবি করেন তারা। এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান বক্তারা।

তাঁরা আরো বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে এদেশকে মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন করেছিলেন সেটা কতিপয় মানুষের জন্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, দমদমা বধ্যভূমি অরক্ষিত ও অযতেœ পড়ে থাকলেও এবিষয়ে প্রশাসন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা স্মারকের কাজ ত্বরান্বিত করার আহবানও জানান বক্তারা।
পরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দু’আ ও মুনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম কাম-খতিব রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ।



মন্তব্য চালু নেই