বাজেট অধিবেশন শুরু, চলবে একমাস

দশম জাতীয় সংসদের প্রথম ও দেশের ৪৪তম বাজেট অধিবেশন শুরু হয় মঙ্গলবার বিকেলে। চলমান সংসদের এটি দ্বিতীয় অধিবেশন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন। এ অধিবেশন আগামী একমাস চলতে পারে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে সংসদকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। ফুলের টব বসানো হয়েছে সংসদের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে। বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সংসদ গ্যালারির সাউন্ড সিস্টেম ঠিক করা হয়েছে। সংসদকে ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে এর আগে এমপিদের দেয়া হয় ল্যাপটপ।

এবারও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। বাজেট অধিবেশনের যাবতীয় তথ্য ও বাজেট সংক্রান্ত পুস্তকাদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে এমপিরা পাবেন। যা পরবর্তীতে তাদের বাজেট বক্তৃতায় সহায়ক হবে।

জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হবে।

স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ১২টি বাজেট পেশ করে শীর্ষে রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। এবারের বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করতে যাচ্ছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী মুহিত। এর আগে তিনি সাতটি বাজেট পেশ করেছেন।

বর্তমান সংসদের দ্বিতীয় এ অধিবেশন কতদিন চলবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে অধিবেশনের আগে বিকেল ৪টায় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি নির্ধারণ করা হবে। এই অধিবেশন এক মাস চলতে পারে বলে জানা গেছে।

বাজেট অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য এ পর্যন্ত একটি মাত্র বিল সংসদ সচিবালয়ে জমা পড়েছে। ‘দি ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৪’ নামের এ বিলটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জমা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংসদে পাসের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট বিল-২০১৪, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল-২০১৪, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক বিল-২০১৪ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বিল-২০১৪। এ ছাড়া সংসদে উত্থাপনের জন্য বেশ কিছু নোটিশ ও লিখিত প্রশ্ন জমা পড়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটের আকার দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত এ বাজেট অনুমোদন করেছেন। এডিপির আকার, রাজস্ব আয়, ব্যাংক ও বিদেশি ঋণের হিসাব ধরে এটি চূড়ান্ত হয়েছে। বাজেটে সব মিলে আয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ঘাটতি রাখা হয়েছে ৬৭ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের অর্থে এ ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই