ঢাবিতে ইলিশের বদলে পান্তা-পুঁটি’র আয়োজন!

ইলিশের পরিবর্তে সরপুঁটি ও পান্তা ভাত দিয়ে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নববর্ষ আয়োজনে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সেখানে তিনি স্বরপুঁটি, পান্তা আর আলু ভর্তা দিয়ে সকালের নাস্তা করেন।

এতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রহমত উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া প্রমুখ।

সাংবাদিক সমিতিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘দেশের সব মানুষের সারা বছর ইলিশ খাওয়ার কথা চিন্তা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য ইলিশের পরিবর্তে অন্যান্য মাছ ও তরকারি দিয়ে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করেছেন। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। একে স্বাগত জানাই। ’

তিনি বলেন, ‘শুধু ইলিশ দিয়েই বৈশাখ পালন করতে হবে এমন কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। এই প্রবণতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। ইলিশ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। নির্বিচারে এই ঐতিহ্য ধ্বংস থেকে আমরা বিরত থাকবো। ’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে জাটকা ধরা বন্ধ করতে হবে। তাহলে সারা বছরই প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে। তাছাড়া পয়লা বৈশাখ পালনের সঙ্গে ইলিশ খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই সাধারণ মানুষের পয়লা বৈশাখ উৎসবে ইলিশ খাওয়া পরিহার করা উচিত। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য কাজ করাই বৈশাখের মুল বার্তা। সে বার্তাকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম খুব ভালভাবে উপলব্ধি করেছে। ’

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের পরিবর্তে শাক-সবজি, ভর্তা, স্বরপুঁটি মাছ ও পান্তা ভাত দিয়ে বৈশাখ উদযাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, ‘বৈশাখে ইলিশ বর্জন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আহ্বান জানিয়েছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত। এই সময় ইলিশের প্রজননের সময় এবং পোনা মাছের দেহ বৃদ্ধির সময়। এখন দেশের মানুষের ইলিশ খাওয়া পরিহার করা উচিত। এতে জাটকা নিধন বন্ধ থাকবে। পয়লা বৈশাখের নামে জাটকা নিধন না চালিয়ে সারা বছরের জন্য মানুষের ইলিশ খাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির জন্য ঢাবি ছাত্রলীগ ইলিশবিহীন এ আয়োজন করেছে। সারা দেশে এমনটা করা উচিত। ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. ফরহাদ উদ্দীন বলেন, ‘ বাঙালি সংস্কৃতির এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে মুড়কি, কদমাসহ নানা ধরনের মিষ্টি খাওয়ার প্রচলন ছিল। হালখাতা কেন্দ্রিক অনুষ্ঠানই ছিল মূল বিষয়। কিন্তু ইদানিং মানুষের মধ্যে বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এটি কমিয়ে আনা উচিত। আর এর শুরু হোক এ বৈশাখ থেকেই। সে চিন্তা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বৈশাখে ইলিশ বর্জন করেছেন। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পলাশী, ফুলার রোড, মল চত্ত্বর, ভিসি চত্ত্বর, হাকিম চত্ত্বর, মধুর ক্যান্টিন, দোয়েল চত্ত্বর, কার্জন হল, শহীদুল্লাহ হল পুকুর পাড়, জগন্নাথ হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব, মুহসীন হল মাঠ, সিনেট ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকা ও বিভাগ ভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারাও ইলিশ বর্জন করেছেন।

চার্জ দে অ্যাফেয়ার্স অব সূর্যসেন হল নামের সংগঠনের মিজবাহ আলম জানান, ‘একমাস ইলিশ না খেলে সারা বছর সবাই ইলিশ খেতে পারবে। আর ইলিশের উৎপাদন বেশি হলে দামও সবার আওতার মধ্যে থাকবে। তাই আমাদের এই উদ্যোগ। ’

এছাড়া বিভিন্ন আবাসিক হলেও ইলিশের পরিবর্তে অন্য মাছের আয়োজন করা হয় বলে হলগুলোর প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান বলেন, ‘ইলিশকে সবার কাছে পৌঁছে দিতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন ঘোষণা দিয়েছেন, যা খুবই ইতিবাচক। এই সময়ে ইলিশ কম খেলে মানুষ সারা বছরই ইলিশ খেতে পাবে। এক মাসের কষ্টের সুফল পাওয়া যাবে সারা বছর। আমার মনে হয় দেশের সবারই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৈশাখে ইলিশকে বর্জন করা উচিত। হলগুলোতে ইলিশ বর্জন করা হয়েছে। ’



মন্তব্য চালু নেই