ডিসিসি নির্বাচনের ফাইলে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর

ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) উত্তর ও দক্ষিণে নির্বাচন সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে এ ফাইলে স্বাক্ষর করেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে এ কথা জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ‘শিগগিরই ডিসিসি নির্বাচন হবে। দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সময় মতো প্রার্থী দেয়া হবে।’ কমিশনার পদে ওয়ার্ড পর্যায়ে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থী দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এসময় মন্ত্রিপরিষদের সবাই নির্বাচন দেয়ার পক্ষে কথা বলেন।

এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আনিসুল হককে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন।

এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার ফোনালাপ নিয়েও মন্ত্রিসভায় কথা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছেও বলে জানানো হয়।

চলতি বছরের শীত মৌসুমের মধ্যে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৮ ডিসেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশের পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে কার্যত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সে সময় নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেছিল, দুই ডিসিসির সীমানা জটিলতা নিরসন না করে নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ সম্পন্ন হলে ফেব্রুয়ারিতে তফসিল ঘোষণা করে মার্চে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে। কিন্তু সব বাধা দূর করে দ্রুত নির্বাচন দেয়া সম্ভব হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যত এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

গেলো বছরের এপ্রিলের দিকে নগরবাসীর দুর্ভোগ ও জনসমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে বিভক্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তার পরিবর্তে ‘রাজনৈতিক প্রশাসক’ নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল সরকার। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়- সরকার নগরবাসীর সেবার বিষয়টি মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত হাতে নিতে চাইছে।

বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপক আলাপ আলোচনাও হয়। কিন্তু এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান বেশ কয়েকজন নেতাদের সঙ্গে দেশের সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরাও তীব্র বিরোধীতা করেন। একই সঙ্গে আইনি জটিলতায় সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় সরকার।

২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগ করা হয়। অভিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০০২ সালের এপ্রিলে। এরপর টানা প্রায় ১০ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা। ২০০৭ সালের ১৫ মে তার মেয়াদ শেষ হলে সেখানে ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগ প্রশাসক নিয়োগ করে।

এরপর ২০১২ সালের ২৯ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এতে ২৪ মে নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু ভোটার তালিকা ও সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় নির্বাচনের ওপর নিষেদাজ্ঞা জারি করেন আদালত। এরপর ২০১৩ সালের ১৩ মে আদালত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।

আবার ওই বছরের অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দেয় কমিশন। কিন্তু ঢাকার সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন ঢাকা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় আবারো দেখা দেয় জটিলতা। এরপর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়- দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ডিসিসি নির্বাচন দেয়া হবে।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা এবং এক সপ্তাহ পর নির্বাচন সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করায় সে নির্বাচনের আশা জাগ্রতো হলো।



মন্তব্য চালু নেই