জনগণই মধ্যবর্তী নির্বাচন আদায় করবে : ফখরুল

সব দলের অংশগ্রহণে একটি আগাম নির্বাচনের দাবি সরকার নাকচ করে দিলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণই তাদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি আদায় করে নেবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে। তাই এ ‘সংকট’ উত্তরণে একটি অর্থবহ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রয়োজন।’ সেজন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস উপলক্ষে শুক্রবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘ওই দিন দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতা দ্বিতীয় বারের মতো বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন। সেই সময়ে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নতুন করে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিলো।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে সিপাহী-জনতা জিয়াউর রহমানকে বন্দি দশা থেকে মুক্ত করে আনেন। পরে তার ওপর রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব দেন। জিয়াউর রহমান ওই সময়ের সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’

সরকার দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘অবৈধ’ সরকার দেশের সব গণতান্ত্রিক স্পেস সংকুচিত করে ফেলেছে। গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন।’ ওই আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ডা. জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, অর্থনৈতিকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালামসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, কৃষক দল, মৎসজীবী দলসহ বিএনপির অঙ্গ, সহযোগী ও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



মন্তব্য চালু নেই