চসিক নির্বাচনের ফল বাতিল চেয়ে বিএনপি’র চিঠি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেনের কাছে এই চিঠি প্রদান করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’ সভাপতি ও বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চিঠিতে আমীর খসরু অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছিল। তাই জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার তাগিদে ২৮ এপ্রিলের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলাম।

কিন্তু নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির লোকজন ও এজেন্টদের গ্রেফতার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে মেয়র প্রার্থী মনজুর আলমের পক্ষে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন না করার হুমকি প্রদান করা হয়।

আমীর খসরু চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় বায়েজীদ, পলিটেকনিক্যাল, জালালাবাদ, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে। ভোটের দুইদিন আগে থেকে হাজার হাজার বহিরাগত সন্ত্রাসী চট্টগ্রামের বিভিন্ন হোটেল, কটেজ, ডরমেটরিসহ বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় আপনার বরাবর (রিটার্নিং অফিসার) ও আইন শৃংখলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এরপরও ২৮ এপ্রিল নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু ভোট গ্রহণ শুরুর পর বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একের পর এক কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়া, কেন্দ্রে যেতে বাধা, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের ভিতরে বাইরে ক্যাডার মোতায়েন করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে সকাল ১১টার আগেই সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দিয়ে দখলে নেয়। ফলে মনজুর আলমসহ তিন মেয়র প্রার্থী এসব অভিযোগ ও অপরাধের প্রতিবাদে নির্বাচন বর্জন করেন। আইন শৃংখলা বাহিনী ও নির্বাচনে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টদের বার বার এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করলেও তারা নিরব থাকে।

প্রকাশ্য দিবালোকে আইন শৃংখলা বাহিনীসহ নির্বাচন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় এমন নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি দেখে চট্টগ্রামবাসী হতভম্ব হয়েছে। আমরাও মনে করি ২৮ এপ্রিল ঢাকা ও চট্টগ্রামে মূলত কোন নির্বাচনই হয়নি, যা হয়েছে তা হচ্ছে নির্বাচনের নামে গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি চরম উপহাস ও প্রহসন।

আমীর খসরু চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের ঘোষিত ফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার দাবি করেন।



মন্তব্য চালু নেই