গ্রিন লাইন ও কার্গো উদ্ধারে ব্যর্থ ‘নির্ভীক’

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে সংঘর্ষের ঘটনায় পানিতে ডুবে যাওয়া কয়লাবাহী কার্গো ও পানিতে আংশিক নিমজ্জিত গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজটি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে বিআইডব্লিউটি’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’।

শনিবার রাতেই গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজ-২ উদ্ধার কাজ শুরু হলেও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে তা বন্ধ রাখা হয়। রবিবার সকালে উদ্ধারকাজ শুরু করলেও উদ্ধারকারী জাহাজের ক্ষমতার তুলনায় গ্রিন লাইনের ওজন বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজ বন্ধ করা হয়।

অপরদিকে কয়লাবাহী কার্গো মাসুদ-মামুন-১ সংঘর্ষে ডুবে যাওয়ায় পানিতে এর অবস্থান নির্ধারণ করা হলেও এটা উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীকের ক্ষমতার তুলনায় গ্রিন লাইন উদ্ধারে বেশি ক্ষমতার উদ্ধারকারী জাহাজ দরকার। যা আমাদের কাছে নেই।’ তিনি জানান, গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজের ওজন ৬৪৫ টন, যা বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব নয়।

এই কর্মকর্তা জানান, একই অবস্থা ডুবে যাওয়া কার্গোর ক্ষেত্রেও। গ্রিন লাইনের চেয়েও বেশি ওজন সেটার। কয়লাবাহী কার্গোটির ওজন প্রায় এক হাজার টন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা বলেন, ‘আমাদের উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এসেছে এবং ডুবে যাওয়া কার্গোটি শনাক্ত করা হয়েছে।’

গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার বলেন, বিআইডব্লিউটিএ তাদের উদ্ধারকারী জাহাজ নিয়ে ফিরে গেছে। আমরা এখন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জাহাজ উদ্ধারের চেষ্টা করছি।

বরিশাল নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শফিক জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। এছাড়া ঘটনাস্থলে যাতে নিরাপদভাবে নৌযান চলাচল করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শনিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে কীর্তনখোলা নদীর চরবাড়িয়া পয়েন্টে যাত্রীবাহী গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজ-২ এর সাথে মাসুদ-মামুন ১ নামে একটি কয়লাবাহী কার্গোর সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কার্গোটি ডুবে যায় এবং গ্রিন লাইন ওয়াটার ওয়েজটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নদীতে আংশিক ডুবে যায়। এতে ওই ওয়াটার ওয়েজের প্রায় ৪০০ যাত্রী প্রাণে রক্ষা পায়। এঘটনায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। যে কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।



মন্তব্য চালু নেই