‘গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’

একদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ২০১৪ সালের নির্বাচনকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা দাবি করে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম একটি ছিল ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীদের বিচার করা। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার সরকার জামায়াতের অন্যতম নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ও কার্যকর করেছে।

এ দুই দলের আধিপত্যের রাজনীতির কারণে দেশটিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এতে নাগরিক ও সামাজিক অধিকার আরও উদ্বিগ্ন অবস্থায় পতিত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশটি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। ৭২ ডে ওরে লা ঢাকা (ঢাকায় ৭২ ঘণ্টা) শীর্ষক একটি লেখায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকারবিষয়ক উপকমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান প্রেদা এসব মন্তব্য করেন। চলতি মাসেই প্রেদার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকার মগবাজারে মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয়ে ড. মিজানুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কমিশন থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় ক্রিশ্চিয়ান প্রেদা মানবাধিকার নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন। সে সময় তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আর সে জন্যই আমরা এ দেশে এসেছি।

ঢাকায় ৭২ ঘণ্টা শীর্ষক ওই লেখায় প্রেদা আরও বলেন, কয়েক বছরে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। আওয়ামী লীগ এ ঘনিষ্ঠতার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটিতে এখন বিরোধীদের সন্ত্রাসী হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার সরকার তাদের ক্ষমতাকে বৈধ দাবি করে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। প্রেদা বলেন, বিএনপি ও তাদের জোট দলগুলো হাসিনার সরকারকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা ২৩২ আসনে জয়লাভ করে এবং এর মধ্যে ১৫৪টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয় পায় ক্ষমতাসীন জোট। দুই মাস ধরে খালেদা জিয়ার অবরুদ্ধ দশার কথাও উল্লেখ করেন প্রেদা।

ক্রিশ্চিয়ান প্রেদা তার লেখায় রানা প্লাজা ট্রাজেডির কথা তুলে ধরে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলেন। প্রেদা বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও তার লেখায় উল্লেখ করেন। সূত্র : adevarul.ro।



মন্তব্য চালু নেই