গরমে শরীরের দুর্গন্ধ দূর করবেন কীভাবে?

গ্রীষ্ম মানেই ঘাম, ঘামাচি আর সারাক্ষণ একটা প্যাচপ্যাচেভাব। ফলে ডিওডোরেন্টই ভরসা। কিন্তু সকালে ডিও লাগিয়ে বাড়ি থেকে বেরোনোর পর তার সুবাস বেশিক্ষণ থাকে না শরীরে। জায়গা করে নেয় দুর্গন্ধ আর অস্বস্তি। এইগরমে কীভাবে সর্বদা সতেজ থাকবেন, তার জন্য রইল কিছু টিপস্ –

এইসময় দিনে দু’বার গোসল করা আবশ্যক – সকালে কাজে যাওয়ার আগে আর বাড়ি ফিরে। ঘামাচি থেকে বাঁচতে দিনে অন্তত দু’বার গোসল করতে পরামর্শ দেন চর্মরোগবিশেষজ্ঞরা।

ভেজা গায়ে পোশাক পরবেন না। অনেকে আছেন গরমকালে অনেকবার গোসল করেন ঠিকই, কিন্তু ভেজা শরীরেই জামা পরে নেন। তারপর বসে পড়েন পাখার সামনে। এই অভ্যেস ত্যাগ করুন এবার। ভেজা শরীরে পোশাক পরলে দুর্গন্ধ হতে পারে। তাই তোয়ালে বা গামছা দিয়ে ভালো করে গা মুছে, পাউডার মেখে পোশাক পরুন।

শরীরের অবাঞ্ছিত রোম দুর্গন্ধ হওয়ার একটা কারণ। রোমে ঘাম জমে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে। বগল, যৌনাঙ্গের রোম সবচেয়ে বেশি দুর্গন্ধ তৈরি করে। ফলত, রোম ওয়্যাক্স বা রেজার দিয়ে তুলে নিন।

অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল সাবান এসময়ের জন্য বেস্ট। ঘামের কারণে জীবাণুর বংশবৃদ্ধি হয়। সেই জীবাণু তৈরি করে দুর্গন্ধ। অনেক ধরনের অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল সাবান বিক্রি হয় বাজারে। নিম, চন্দন, মিন্টযুক্ত সাবান বেছে নিতে পারেন।

অন্যদিকে দুর্গন্ধ নির্মূল করতে এইসময় এসেনশিয়াল অয়েল দারুণ কাজ করে। অনেকের ত্বকের কারণে ডিওডোরেন্ট সহ্য হয় না। তাদের জন্য এটি আদর্শ বাছাই। ল্যাভেন্ডার, পেপারমিন্ট, পাইন এসেনশিয়াল অয়েল বেছে নিন। রোজ গোসলের পানিতে ১-২ ফোঁটা ফেলে দিন। সারাদিন শরীরে সুবাস ম ম করবে। অ্যান্টি-পার্সপিরেন্ট ডিওডোরেন্টও বেছে নিতে পারেন। এধরনের ডিওডোরেন্ট দারুণ ভালো ঘাম শোষে।

দুর্গন্ধ নির্মূল করতে ডিওডোরেন্টের বিকল্প হিসেবে কাজ করে পাতিলেবু। আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, রেস্তরাঁয় খাওয়া শেষে ফিঙ্গার বোল দেওয়া হয়। সেখানে থাকে ঈষদুষ্ণ জল ও এক টুকরো পাতিলেবু। মাছ, মাংস, যাই খান ওই জলে একবার হাত ধুলে কোনও গন্ধ থাকে না।

গরমকালে সারাদিন সতেজ থাকতে পাতিলেবু তেমনই ভূমিকা পালন করে। শরীরের যেসব অংশ থেকে দুর্গন্ধ বেরোয়, সেখানে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস ঘষে নিন। আর দুর্গন্ধ বেরোবে না। নয়তো গোসলের সময় পানিতে একটা পাতিলেবু চিপে দিন, দারুণ ফল পাবেন। পায়ের পাতা থেকে ঘামের দুর্গন্ধ যেতে না চাইলে, ওই জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকুন কিছুক্ষণ, হাতেনাতে ফল পাবেন।

গরমে যত পারবেন তরল খাবার খান, যেমন – বাটারমিল্ক, লস্যি, ফলের রস, গ্লুকোজ যুক্ত পানি, লেবুর পানি, সুপ। তেল, ঝাল দেওয়া খাবার এইসময় এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে যেমন শরীর ঠান্ডা থাকে, গরমে হাঁসফাঁস করে না। আবার দুর্গন্ধও আসে না গা থেকে।

গরমে শরীরের দুর্গন্ধ রোধ করতে পোশাক বাছাই করার বেলাতেও সতর্ক থাকতে হবে। সুতি বা লিনেনের পোশাক বেছে নিন। এই ধরনের কাপড় ঘাম শুষে নেয় তাড়াতাড়ি, দুর্গন্ধ হতে দেয় না। কিন্তু লাইলন কিংবা সিন্থেটিক পোশাকের ব্যাপারটা অন্য। জুতো বাছাইয়ের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এসময় পা

ঢাকা স্নিকার বা পাম্পশু পরবেন না। গরমে আরও ঘামতে শুরু করবে পা। কোনও কারণে যদি পা ঢাকা জুতা পরতে হয় সঙ্গে মোজা পরুন।

আপনি কি জানেন, ত্বকের pH লেভেল বজায় রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে ভিনিগার। সেইসঙ্গে দুর্গন্ধও দূর করতে পারে। শরীরের যেসব অংশে খুব বেশি ঘাম হয়, সেখানে সামান্য ভিনিগার স্প্রে করে নিন।



মন্তব্য চালু নেই