খুলনায় ২৮ টাকায় কেনা গম বিক্রি করতে হচ্ছে ১৫ টাকায়

পচন ঠেকাতে খুলনায় খাদ্যগুদামে মজুদকৃত ১০০ কোটি টাকার বিদেশি গম দ্রুত খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) উদ্যোগে নেয়া হয়েছে। আট মাস আগে আনা এসব গম জরুরি ভিত্তিতে ওএমএস’র মাধ্যমে সরবরাহ করতে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ইতোপূর্বে ৫৮ হাজার মেট্রিক টন গম সরবরাহের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। খাদ্য কর্তৃপক্ষের ২৮ টাকায় ক্রয় করা এসব গম ওএমএস ডিলারদের কাছে বিক্রি করা হবে ১৫ টাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভাগের ৬৯টি গুদামে খাদ্য কর্তৃপক্ষের ৫৮ হাজার মেট্রিক টন গম মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার মেট্রিক টন গম অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা থেকে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে, রাশিয়া থেকে ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসে এবং ইউক্রেন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৪০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হয়। যার মূল্য একশ কোটি টাকারও বেশি।

সূত্র আরো জানায়, টিআর, কাবিখা ও ওএমএস বন্ধ থাকায় আট মাস আগে বিদেশ থেকে আনা গুদামে মজুদকৃত এসব গম সরবরাহ হচ্ছে না। গুদাম থেকে গমের গুণগতমান কমে যাচ্ছে। গুদামগুলো কীটের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় কীটনাশক বরাদ্দ করা হচ্ছে।

তিন মাস পর পর গুদাম প্রতি মাত্র ১৫ কেজি কীটনাশক বরাদ্দ করা হয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে গম নিলামে বিক্রি করতে হবে। স্থানীয় খাদ্য কর্মকর্তা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তাছাড়া সম্প্রতি যশোরে এক অনুষ্ঠানে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অংশ নিলে তাকেও বিষয়টি অবহিত করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।

খাদ্য গুদামের একটি সূত্র জানায়, গত ৭ মে থেকে ওএমএস বন্ধ। বন্ধ রয়েছে টিআর ও কাবিখা। ফলে মজুদকৃত এসব গম সরবরাহ করা হচ্ছে না। প্রতি কেজি গম ২৮ টাকা দরে ক্রয় করে ওএমএস ডিলারদের কাছে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতি রাখতে ও নিম্ন আয়ের মানুষদের কম মূল্যে খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে ওএমএস চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এজন্য খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. মিজানুর রহমান মিজান ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান খাদ্যমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন। তাছাড়া ওএমএস চালু করতে মন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চলতি রমজানেই ওএমএস চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান খান জানান, একশ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ৫৮ হাজার মেট্রিক টন গম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। ওএমএস বন্ধ থাকার সঙ্গে অন্য কোনো খাতে গম সরবরাহের সুযোগ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ওএমএস চালু করতে স্থানীয় দুই সংসদ সদস্য মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী নুরুল ইসলাম জানান, আগস্ট-সেপ্টেম্বরে আমদানি করা গমের গুণগতমান ভালো আছে। খাদ্য গুদাম থেকে প্রতিমাসে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও জেলখানা কর্তৃপক্ষকে ১৫০০ মেট্রিক টন গম সরবরাহ করা হয়। আগামী ৩/৪ মাসে কোনো খাতে গম সরবরাহ করা না হলে মজুদকৃত গম নিলামে বিক্রি করতে হবে।



মন্তব্য চালু নেই