কবরীকে দেখে গেয়ে উঠলেন কবি

সৈয়দ শামসুল হক ও কবরীসৈয়দ শামসুল হক ও কবরীরাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কবি সৈয়দ শামসুল হক। শনিবার রাতে হাসপাতালটির ছয়তলার কেবিনে তাঁকে দেখতে হাজির হয়েছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ নায়িকা কবরী। তাঁকে দেখেই গেয়ে উঠেছিলেন কবি ও লেখক সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক।

গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে হাসপাতালে কবিকে দেখতে যান কবরী। কেবিনের বাইরে কবরীকে স্বাগত জানান সৈয়দ হকের বোন সফিনাজ হোসাইন। কেবিনের ভেতরে অতিথি থাকায় খানিকটা সময় কবরীকে বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। একসময় কবিপত্নী আনোয়ারা সৈয়দ হক কেবিনের বাইরে এসে কবরীকে ভেতরে নিয়ে যান। ভেতরে প্রবেশের পর হঠাৎ ভেসে আসে গানের সুর। সৈয়দ হকের বোনকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, ‘কবরী আপাকে দেখেই গান গেয়ে উঠেছেন ভাইয়া। “সুতরাং” ছবির “পরানে দোলা দিল এ কোন ভোমরা” গেয়ে কবরী আপাকে স্বাগত জানান ভাইয়া। তিনি গান শেষ করতে না করতেই কবরী আপাও গেয়ে ওঠেন একই সিনেমার “তুমি আসবে বলে/ কাছে ডাকবে বলে” গানটি। কেবিনের ভেতরে তখন এক অন্য রকম পরিবেশ।’ কবির পরিবারের লোকজন ছাড়াও সে সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে কবরীর অভিষেক ‘সুতরাং’ ছবির মাধ্যমে। ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। ওই ছবিতে সৈয়দ শামসুল হকের লেখা কয়েকটি গানও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সে রকমই দুটি গান দিয়ে একে অন্যকে অভিবাদন জানান এই দুই জীবন্ত কিংবদন্তি। একসময় ভেতরে ডাক পড়ে কেবিনের বাইরে অপেক্ষারত এই প্রতিবেদকের। কেমন আছেন জানতে চাইলে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, ‘এখন বেশ ভালো অনুভব করছি। সুস্থ হয়ে উঠছি। অনেক কিছুই ভাবছি, লিখছি। তাড়াতাড়ি হাসপাতাল ছাড়ছি ইনশা আল্লাহ।’

গান-বিনিময় ছাড়া আর কী কথা হলো জানতে চাইলে কবরী বলেন, ‘হক ভাই হাসপাতালে আমাকে দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন। তাঁর দুই বোন ও তাঁদের সন্তানেরাও আমাকে দেখে খুশি হয়েছেন। হক ভাই নাকি বলেছেন, তাঁকে যে বাংলাদেশের মানুষেরা এত ভালোবাসেন, সেটা তিনি আগে বোঝেননি।’ কবরী আরও বলেন, ‘“সুতরাং” ছবির পর থেকেই তাঁর সঙ্গে আমার একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাই তো তাঁর অসুস্থতার খবর শুনেই ছুটে গিয়েছি। আমি যখন কেবিনের ভেতরে ঢুকলাম, তখন তিনি বিছানায় শুয়ে ছিলেন। আমাকে দেখেই “সুতরাং” ছবির একটা গান গেয়ে উঠলেন। আবারও প্রমাণ পেলাম, হক ভাইয়ের স্মরণশক্তি কতটা প্রখর। তিনি যে ক্যানসারে আক্রান্ত, ব্যাপারটা টেরই পেতে দেননি। সবাইকে বোলো, হক ভাইয়ের জন্য যেন দোয়া করেন।’-প্রথম আলো



মন্তব্য চালু নেই