আর্দ্রকণ্ঠে দুই সাংবাদিককে স্মরণ

বৃষ্টিভেজা দিনে আর্দ্রকণ্ঠে প্রয়াত দুই সদস্যকে স্মরণ করলো ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। অল্প সময়ে ব্যবধানে চলে যাওয়া এ সদস্য হলেন দৈনিক জনকণ্ঠের শফিকুল ইসলাম সেন্টু ও ভোরের কাগজের কিশোর কুমার।

সেই সঙ্গে কিশোর কুমারের পরিবারের হাতে ডিআরইউয়ের পক্ষে এক লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির পক্ষ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার সহায়তা তুলে দেয়া হয়।

বুধবার ডিআরইউয়ের সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বক্তব্য রাখেন কিশোর কুমারের মা মালতি রানী দাস, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কিশোর কুমারের স্ত্রী অঞ্জনা রাণী ঘোষ।

ডিআরইউ সভাপতি শাহেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআরইইয়ের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আজিজুল পারভেজ।

কিশোর কুমারের মা মালতি রানী অশ্রুভেজা কণ্ঠে বলেন, ‘আমার জীবনের প্রদীপটা নিভে গেলো। কিশোর সারাক্ষণই খোঁজখবর নিতো। ঢাকা থেকে সব সময় ফোন করে জানতে চাইতো- আমি খেয়েছি কি না, ওষুধ নিয়েছি কি না। আজ আমাকে এভাবে বলার মতো আর কেউ নেই। আমার মতো এমন ভাগ্য যেন আর কোন মায়ের না হয়।’

সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘অল্প সময়ে চলে যাওয়া তো প্রত্যাশিত নয় অত্যন্ত বেদনার। যিনি চলে যান কোথায় যান কীভাবে থাকেন সেটা আমরা দেখি না কিন্তু যাদের রেখে যান তারা তো তাদের হারিয়ে শোকার্ত হন।’

কিশোর কুমার সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক হিসেবে তো বটেই, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে সে আমাদের সম্পৃক্ত ছিলো। অত্যন্ত নম্র বিনয়ী স্বল্প ভাষী। যে প্রকৃত অর্থেই মানুষ ছিলেন।’ কোন প্রয়োজনে সঙ্কটে দুই প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারকে সহয়তা প্রদান করবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে কিশোর কুমারের স্ত্রীর হাতে ১ লক্ষ টাকার চেক তুলে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আসাদুজ্জামান নূর। জ্ঞান ও সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশনা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কামারুল হাসান শায়ক কিশোর কুমারের মায়ের হাতে পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।

প্রসঙ্গত, মো. শফিকুল ইসলাম সেন্টুর পরিবার পরিজনের কেউ না থাকায় ডিআরইউ এর পক্ষ থেকে দেয়া অনুদান দেয়া সম্ভব হয়নি।



মন্তব্য চালু নেই