“আমাদের আটকে রেখেছে, বাঁচান”

রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর একটি বাসা থেকে ১০ শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আরিফুর রহমান, হাসিবুল ইসলাম সবুজ, জাকিয়া সুলতানা ও ফিরোজ আলম শুভ। শনিবার দুপুরে এ শিশুগুলোকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো- ভোলার বাবুল (১০), আব্বাস (১০), স্বপন (১১) নোয়াখালীর আকাশ (৯), রফিক (১৪) কুমিল্লার মোবারক হোসেন (১৪) পিরোজপুরের আবদুল্লাহ আল মামুন (১১), নারায়ণগঞ্জের ইব্রাহিম (১০), ময়মনসিহংহের রাসেল (১৪) ও মৌলভীবাজারের ফরহাদ হোসেন (৯)।

এ ঘটনায় রামপুরা থানায় মানব পাচারের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, শনিবার দুপুরে বনশ্রীর সি’ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাসার ২০৬ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে এ সব শিশুদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নামের একটি এনজিওর চারজনকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। রামপুরা থানার মামলা নম্বর ১৩।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, রামপুরার বনশ্রীর সি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাসার ২০৬ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ১০ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন,একজন মহিলা রামপুরায় থানায় অভিযোগ করেন তার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানতে পেরেছেন, রামপুরার ওই বাসায় তার ছেলেকে আটক রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক মহিলাসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, আটকেরা দাবি করছে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুদের ওই বাসায় রাখা হয়নি। তারা পথ ও হারিয়ে যাওয়া শিশুদের নিয়ে কাজ করেন। তাদের অদম্য বাংলাদেশে ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও রয়েছে। এ কারণে তাদের ওই বাসায় রাখা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়নি তারা শিশুদের নিয়ে কাজ করেন। তারা এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি বলেন তিনি। গ্রেপ্তারকৃতদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদি তারা শিশু কিংবা মানবপাচারকারী হয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রামপুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০ শিশুর মধ্যে একজন দুপুর ১২টার দিকে ওই বাসা থেকে বের হয়ে চিৎকার করে বলে ‘আমাদের এখানে আটকে রেখেছে, আপনারা বাঁচান’। পরে এলাকাবাসী থানায় সংবাদ দিলে চারজনকে আটক ও ১০ শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এনজিও’র আড়ালে আটক ব্যক্তিরা শিশু পাচার করছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।



মন্তব্য চালু নেই