অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: আউটসোর্সিংয়ের সোনার কাঠি

আল-আমিন কবির, তথ‍্যপ্রযুক্তি খাতের তরুণ উদ্যোক্তা। মার্কেটেভার নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। এর আগে ডেভসটিম লিমিটেডসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বিশেষ পুরস্কারও পেয়েছেন তথ‍্যপ্রযুক্তিভিত্তিক উদ‍্যোগের জন‍্য।

বর্তমানে তিনি কাজ করছেন অ‍্যামাজন অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে। বিশ্বব‍্যাপী অ‍্যামাজন অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কোচ হিসেবেও কাজ করছেন। তার এই উদ‍্যোগ ইতিমধ‍্যে প্রশংসিত হয়েছে ফক্সনিউজ এবং এন্টারপ্রেনার ডট কমের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ‍্যমে।

অ‍্যাফিলিয়েট মাকের্টিংয়ে আগ্রহের মূল কারণ হচ্ছে ‘প‍্যাসিভ ইনকাম’। প‍্যাসিভ ইনকাম অর্থ এমন পদ্ধতিতে অর্থ উপার্জন করা যেখানে আপনার সবসময় কাজ করার দরকার নেই। একবার আগেভাগে কিছু কাজ করে রাখলে দীর্ঘ সময় ধরে আপনি সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

আপনার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটি জানতে চাই।

আল-আমিন কবির: ছোটবেলা থেকেই নিজের মধ‍্যে একটা উদ‍্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা ছিল। ছোটখাটো কিছু উদ‍্যোগ নিলেও ২০১২ সালের আগে কখনও সেসব বাস্তবরূপ পায়নি।

তখন আমি একটি অনলাইন পোর্টালে চাকরি করি। তথ‍্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ফিচার লিখি। সে সময় আমার অন‍্যান‍্য কাজের পাশাপাশি নিয়মিত একটা কাজ ছিল, বাংলাদেশি ফ্রিল‍্যান্সার এবং অনলাইন প্রফেশনালদের ইন্টারভিউ নেওয়া। সবার ইন্টারভিউতে একটা বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে উঠে আসত- বাংলাদেশে নতুন যারা এই ক্ষেত্রে ক‍্যারিয়ার গড়তে চায় তাদের জন‍্য সঠিক গাইডলাইন পাওয়াটা বেশ কঠিন। নেই মানসম্মত কোনও প্রশিক্ষণের ব‍্যবস্থা, অনলাইনে নেই ভাল কোনও গাইডলাইন। সেসময় ডুল‍্যান্সার-স্কাইল‍্যান্সারের মতো অনেক প্রতারক কোম্পানিও এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে নতুনদের নিঃস্ব করে চলছিল।

দেশের অনেক পত্রিকা তখন এসব প্রতারক কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বিশাল কলেবরে ইতিবাচক ফিচার প্রকাশ করত। তরুণরা এসব দেখে আরও ভুল পথে পা বাড়াত। আমার মনে হয় এই ব‍্যাপারে কোনও উদ‍্যোগ নেওয়া উচিৎ। অনলাইনে এবং কাজের সূত্রে পরিচিত কয়েকজন ফ্রিল‍্যান্সার ও অনলাইন প্রফেশনালের সঙ্গে যৌথভাবে তখন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরির উদ‍্যোগ নিই, যার মূল কাজ হবে ফ্রিল‍্যান্স আউটসোর্সিং এবং অনলাইন পেশা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা, সঠিক তথ‍্য দেওয়া এবং এ বিষয়ক মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

একই সঙ্গে আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনলাইন আউটসোর্সিং নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করি। ২০১২ সালের ৪ মে ডেভসটিম লিমিটেড নামে আমাদের প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি শুরুর মাধ‍্যমেই মূলত আমার উদ‍্যোক্তা হয়ে ওঠা।

অ‍্যামাজন অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিংবা নিশ সাইট তৈরি হচ্ছে এমনই একটি প‍্যাসিভ ইনকাম স্ট্রিম। আপনি একবার একটা নিশ সাইট তৈরি করে গুগলে র‍্যাংকিং করতে পারলে আপনি মাসের পর মাস সেখান থেকে ইনকাম পাবেন। এই কারণে অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আমার সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল এবং এই সেক্টরে কাজ শুরু করি। অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মডেলটাও খুব সিম্পল। আপনি একজনের পণ‍্য বিক্রি করে দেবেন, আর এর বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট অংকের কমিশন পাবেন।

ছিলেন সাংবাদিক, উদ্যোক্তা হলেন কেন?

আল-আমিন কবির:ওই যে বললাম, ছোটবেলা থেকেই উদ‍্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। আরও কয়েকটি বিষয় আমার মাঝে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। আমার এক বড় ভাই তখন সাংবাদিকতা করতেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তাও। তার সঙ্গে দীর্ঘ একটা সময় কাটিয়েছি, উনার কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং নতুন কিছু করার উদ‍্যম দেখেই মূলত নিজে কিছু করার অনুপ্রেরণা পেয়েছি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান এবং তার ‘চাকরি খুঁজবো না, চাকরি দিবো’ উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

এ ছাড়াও গ্রামীণ কমিউনিকেশন সেন্টারের উদ‍্যোগে আমি ২০১১ সালে জাপানে একটি তথ‍্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলাম। সেই প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতাও আমাকে সাহস দিয়েছে।

আসলে আমি প্রতিনিয়ত সুযোগ খুঁজছিলাম। একজন উদ‍্যোক্তার কাজ কোনও সমস‍্যা খুঁজে বের করা এবং সেটির সমাধান দেওয়া। বাংলাদেশের ফ্রিল‍্যান্স আউটসোর্সিং খাতটি ২০১১-২০১২ সালে খুবই ভুল পথে যাচ্ছিল, নতুনদের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল সঠিক তথ‍্য ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ। এই সমস‍্যাটিকেই সেসময় আমরা সমাধান করতে চেয়েছি।

তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা হতে গেলে এ বিষয়ে শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ থাকা কি জরুরি?

আল-আমিন কবির: আমি কোনওভাবেই সেটি মনে করি না। বাংলাদেশের অধিকাংশ তথ‍্যপ্রযুক্তি উদ‍্যোক্তাই কিন্তু পড়াশোনা করেছেন ভিন্ন বিষয়ে, প্রযুক্তি বিষয়ে না। তথ‍্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে নতুন আইডিয়া নির্ভর। তথ‍্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা হতে হলে তাই এক্ষেত্রে বড় সমস‍্যাগুলোকে ভালোভাবে খুঁজে বের করতে জানতে হবে। এরপর সেই সমস‍্যাটির সমাধান করাই একজন উদ‍্যোক্তার কাজ। যে যত বড় এবং যত বেশি মানুষের সমস‍্যার সমাধান দিতে পারবে, সেই ব‍্যবসাটি সবচেয়ে বড় বা স্কেলেবল হবে।

তথ‍্যপ্রযুক্তির মাধ‍্যমে সমস‍্যা সমাধান করতে তাই তথ‍্যপ্রযুক্তি বিষয়ে জানাশোনা থাকতে হবে, এই জানাশোনার জন‍্য ইন্টারনেটেই সব রিসোর্স পাওয়া যায়।

কেন অনলাইনকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেন? কারণ দৃশ্যমান না হওয়ায় অনেকে বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান না।

আল-আমিন কবির: প্রযুক্তির প্রতি ভালোবাসা বলতে পারেন। ঘরে বসেই দেশ-বিদেশের এত মানুষের সঙ্গে কাজ করা যায়, কত দূর-দুরান্তের সমস‍্যার সমাধান করা যায়, এই পুরো ধারণার প্রতি এক ধরনের আবেগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সে কারণেই মূলত অনলাইন প্রফেশনকে বেছে নেওয়া।

 যতদূর জানি আপনি সাধারণত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু এতো মাধ্যম থাকতে এটা কেন?

আল-আমিন কবির: অ‍্যাফিলিয়েট মাকের্টিংয়ে আগ্রহের মূল কারণ হচ্ছে ‘প‍্যাসিভ ইনকাম’। প‍্যাসিভ ইনকাম অর্থ এমন পদ্ধতিতে অর্থ উপার্জন করা যেখানে আপনার সবসময় কাজ করার দরকার নেই। একবার আগেভাগে কিছু কাজ করে রাখলে দীর্ঘ সময় ধরে আপনি সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

প‍্যাসিভ ইনকামের উদাহরণ হতে পারে বই লেখা। আপনি একবার বই লিখলেন, কোনও প্রকাশনীর মাধ‍্যমে সেটি প্রকাশ করলেন। আর এরপর যতদিন বইটি বিক্রি হবে ততোদিন আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়‍্যালটি পেতে থাকবেন। হতে পারে আপনি ঢাকা শহরে একটি ফ্ল্যাট কিনলেন। এরপর আপনাকে কি নিয়মিত কোন কাজ করতে হবে? না! কেবল সেটি ভাড়া দিয়ে রাখলেই আপনি প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উপার্জন করবেন।

অ‍্যামাজন অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিংবা নিশ সাইট তৈরি হচ্ছে এমনই একটি প‍্যাসিভ ইনকাম স্ট্রিম। আপনি একবার একটা নিশ সাইট তৈরি করে গুগলে র‍্যাংকিং করতে পারলে আপনি মাসের পর মাস সেখান থেকে ইনকাম পাবেন। এই কারণে অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আমার সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল এবং এই সেক্টরে কাজ শুরু করি। অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মডেলটাও খুব সিম্পল। আপনি একজনের পণ‍্য বিক্রি করে দেবেন, আর এর বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট অংকের কমিশন পাবেন।

অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রিটা কত বড়, আর এটি কতটা স্কেলেবল ব‍্যবসাক্ষেত্রে বলে আপনি মনে করেন?

আল-আমিন কবির: অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বিজনেস অবশ‍্যই স্কেলেবল। আর স্কেলেবল বলেই মাল্টিমিলিয়ন ডলারের কোম্পানিগুলোও এখন অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে ঝুঁকছে। এই ইন্ডাস্ট্রির উজ্জ্বল ভবিষ‍্যত আছে। এটি ভায়াবল বিজনেস মডেল বলেই তারা এখানে ইনভেস্ট করছে। বড় বড় মিডিয়া মাফিয়ারা যখন অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ভবিষ‍্যত উজ্জল মনে করেন, সেখানে আমাদের আর দুঃশ্চিন্তা কি?

অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট পোর্টফোলিওর উপর ভিত্তি করে বিশ্বের শত শত কোম্পানি রয়েছে, ইন্ডিভিজুয়াল মার্কেটাররা রয়েছেন। যাদের পোর্টফোলিওতে আছে মাল্টিমিলিয়ন ডলারের সাইট। আর তাদের মাসিক আয়ও মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সম্প্রতি আমি একটা নিশ সাইট বিক্রি করছি। বেশ বড় অ‍্যামাউন্টের। তো এই বিক্রির সুবাদেই আসলে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হচ্ছে – যাদের অ‍্যাফিলিয়েট সাইটে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট রয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে অ‍্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইটে কেনা, সেগুলো উন্নত করা এবং নিয়মিত পরিচরযা করা।

বিশ্বব‍্যাপী বিনিয়োগের যত ধরনের সুযোগ আছে, অ‍্যাফিলিয়েট সাইটে ইনভেস্টমেন্ট সবচেয়ে বেশি মুনাফা হয়। ইনটার্মস অব রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই), ওয়েব প্রোপার্টি হচ্ছে সবচেয়ে ‘লুক্রেটিভ ইনভেস্টমেন্ট’ অপশন। যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্টে অ্যাভারেজ রিটার্ন ৯ থেকে ১১ শতাংশ, শেয়ার বাজারে ইনভেস্টমেন্টে অ্যাভারেজ রিটার্ন ৬ থেকে ৭ শতাংশ। অ‍্যাফিলিয়েট পোর্টফোলিও সাইটে ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন বছরে ৬০ শতাংশেরও বেশি। অ‍্যাফিলিয়েট সাইট বিকিকিনির সাইট এমপায়ারফ্লিপার, এফই ইন্টারন‍্যাশনালের লিস্টিংগুলো চেক করলেই এই হাই রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টের হিসাব মিলবে।

কেন এসব কোম্পানি অ‍্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইটে ইনভেস্ট করে?

আল-আমিন কবির: বিশ্বব‍্যাপী বিনিয়োগের যত ধরনের সুযোগ আছে, অ‍্যাফিলিয়েট সাইটে ইনভেস্টমেন্ট সবচেয়ে বেশি মুনাফা হয়। ইনটার্মস অব রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই), ওয়েব প্রোপার্টি হচ্ছে সবচেয়ে ‘লুক্রেটিভ ইনভেস্টমেন্ট’ অপশন। যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্টে অ্যাভারেজ রিটার্ন ৯ থেকে ১১ শতাংশ, শেয়ার বাজারে ইনভেস্টমেন্টে অ্যাভারেজ রিটার্ন ৬ থেকে ৭ শতাংশ। অ‍্যাফিলিয়েট পোর্টফোলিও সাইটে ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন বছরে ৬০ শতাংশেরও বেশি। অ‍্যাফিলিয়েট সাইট বিকিকিনির সাইট এমপায়ারফ্লিপার, এফই ইন্টারন‍্যাশনালের লিস্টিংগুলো চেক করলেই এই হাই রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টের হিসাব মিলবে।

প্রচলিত যেসব মিডিয়া আছে, তারাও আস্তে আস্তে অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মডেলে আসবে, আরও বেশি বেশি কোম্পানি আসবে যারা প্রচলিত বিপণন চ‍্যানেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে ফোকাস করবে।

 আপনারা তো মূলত ইন্টারন‍্যাশনাল ই-কমার্স সাইটগুলোর পণ‍্য বিক্রি করে তাদের থেকে কমিশন পান, তো সেই একই মডেল বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে কেমন কাজ করবে বলে আপনি মনে করেন?

আল-আমিন কবির: বাংলাদেশে ই-কমার্স ব‍্যবসা পূর্ণতা প্রাপ্তির দিকে যাচ্ছে। অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন‍্য এসব প্রতিষ্ঠান এখনই পুরোপুরি রেডি না হলেও শিগগিরই এই মার্কেটটাও রেডি হবে।

দেশে দারাজ, ব্র্যানু.কম-সহ আরও কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ইতিমধ‍্যে অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অপশন রয়েছে, তবে আমাদের দেশের ভোক্তার পণ্য ক্রয় অভ্যাস এখনও পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর না হওয়া সহ আরও কিছু লজিস্টিকস ইস‍্যুর কারণে অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা এই সুবিধাটি কাজে লাগাতে পারছেন না।

অ‍্যামাজন, আলিবাবাসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে আসার কথা শোনা যাচ্ছে। তারা এলেই দেশের বাজারে অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজ করার প্রচুর সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশে অনলাইন মিডিয়াগুলো (বিভিন্ন ওয়েব পোর্টালসহ) মোনেটাইজ করার সুবিধা খুব কম। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক অ‍্যাড মিডিয়া (যেমন: গুগল অ‍্যাডসেন্স) বাংলা এখনও পুরোপুরি সাপোর্ট করে না। তাই অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং তাদের জন‍্য একটা বড় সুবিধা হিসাবে আবির্ভূত হবে।

অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আসতে আপনি কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন? আর এটি কিভাবে মোকাবেলা করেছেন?

আল-আমিন কবির: সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে দক্ষতা। আমরা এ বিষয়টিতে একেবারেই দক্ষ নেই। দেশে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগও খুব কম রয়েছে। সমস‍্যাটি মোকাবেলা করতে আমাকে প্রচুর পরিমাণে পড়াশোনা করতে হয়েছে অনলাইনে। তবে নতুন যারা এক্ষেত্রে আসবেন তাদের জন‍্য এখন পথ অনেক সোজা। আমাদের ফেসবুক গ্রুপে স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন রয়েছে। এছাড়া www.marketever.com ব্লগেও এখন সব তথ‍্য পাওয়া যায়।

অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে ভালো করতে হলে কি করতে হবে? নতুনদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

আল-আমিন কবির: অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটা ব‍্যবসা। এখানে আসতে হলে তাই পুঁজি দরকার হবেই। টাকা এবং সময় দুটোই। তাই পরামর্শ থাকবে খুব জেনে-শুনে তারপরই বিনিয়োগ করা। দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানই অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রশিক্ষণ দেয়। তাদের থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে।

বাংলাদেশ থেকে কেউ যদি অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চায়, আমি বলব পড়াশোনা শুরু করুন। বাংলায় এখন প্রচুর রিসোর্স রয়েছে, টিউটোরিয়াল রয়েছে। সেগুলো দেখা শুরু করুন। এরপর কনটেন্ট রাইটিং এবং এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন) বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে তবেই অ‍্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে নামতে পারেন।

ভালো হয় খুব বিশেষজ্ঞ কারও অধীনে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে হাতে কলমে শিখলে।বাংলাট্রিবিউন



মন্তব্য চালু নেই