অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশু গৌরাঙ্গের মাথা : দিশেহারা মা-বাবা

হামিদা আক্তার, নিজস্ব প্রতিবেদক : গর্ভে স্বাভাবিক ভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে গৌরাঙ্গ। আমার প্রথম সন্তান রত্না রানী রায় যেভাবে গর্ভে ছিল। প্রথম কন্যা শিশু রত্না স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নিয়ে সে সুস্থ্য জীবন যাপন করছে। তার বয়স এখন ১২। আমার তৃত্বীয় সন্তান শিশু কন্যা ময়না রানী রায়ের বযস চলছে ৮ মাস। সেও ভালো আছে স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে উঠছে। কিন্তু আমার দ্বিতীয় সন্তান গৌরাঙ্গ গর্ভে অন্য দুই সন্তানের মতোই বৃদ্ধি পেয়ে সময়মত স্বাভাবিক ভাবেই প্রসব হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জন্মের পরও বুঝা যায়নি গৌরাঙ্গ একটি অস্বাভাবিক নবজাতক। কিন্তু গৌরাঙ্গের বয়স যখন ১ মাস তখনই বুঝতে পারি তার মাথাটি ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে শুরু করেছে। এরপর অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি।

ডাক্তাররা দেখে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেছিলো গৌরাঙ্গের মাথায় টিউমার জাতীয় একটা কিছু থাকায় তার মাথায় জ্বল জমে থাকে, ফলে মাথাটি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শিশু গৌরাঙ্গের মাথায় অস্ত্রোপাচার করতে হবে, এতে ব্যয় হবে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু আমরা গরীব মানুষ এতো টাকা কোথায় পাবো ? তাই সে সময় অপারেশন করাতে পারিনি গৌরাঙ্গের। এখন বয়সের সাথে তাল মিলিয়ে গৌরাঙ্গের মাথাটি এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে অস্বাভাবিক ভাবে। বর্তমানে তার বয়স ৭ বছর হলেও সে হাটতে পারছে না। তবে কথা বলতে পারে স্বাভাবিক শিশুদের মতোই। সে ঠিক মতো ঘুমায়, ঠিক মতো খায়, পায়খান-প্রস্রব একেবারেই স্বাভাবিক। কোন কিছুতেই কোন সমস্যা নেই। কিন্তু মাথাটি বাড়ছে অস্বাভাবিক ভাবে। বয়সের তুলনায় মাথা বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। এখন কি যে করি ? আমরা দিশেহারা হয়ে পরেছি। এভাবেই অস্বাভাবিকভাবে মাথা বৃদ্ধি পাওয়া গৌরাঙ্গের বর্নণা দিলো তার মা শেফালী রানী ও বাবা গানিক চন্দ্র রায়।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডিমলা মৌজার পূর্ব আদর্শপাড়া (তিল্লাইবিল) গ্রামের বাসিন্দা লক্ষিকান্ত রায়ের পুত্র গানিক চন্দ্র রায়ের দ্বিতীয় সন্তান অস্বাভাবিক শিশু গৌরাঙ্গ চন্দ্র রায়। শিশু গৌরাঙ্গের মাথা অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এ খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা ছুটে যায় শিশুটির বাড়ীতে। সেখানে শিশু গৌরাঙ্গের অস্বাভাবিক মাথার ছবি ক্যামেরায় বন্ধি করার সময় তার মা চোখের জ্বল ছেড়ে দিয়ে বলে,গৌরাঙ্গ যখন পৃথিবীতে আসে তখন এই গরীব সংসারে খুঁশিতে ভরে উঠেছিল। ভগবান আমাদের কোলে গৌরাঙ্গকে দিয়ে আমাদের মনের বাসনা পূরন করেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে গৌরাঙ্গকে নিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ছি। কোন দিকে পথ খুঁজে পাচ্ছি না। এখন ভগবানের উপড় সব ছেড়ে দিয়ে বসে আছি। একই ভাবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন গৌরাঙ্গের অসহায় বাবা গানিক চন্দ্র রায়। সহায় সম্বলহীন গানিক মুদির দোকান করেই চালান সংসার জীবন। কখনও কখনও দিন মুজুরী দিয়ে চলতে হয় তাদের। জায়গা-জমি নেই। আছে শুধু বাড়ী ভিটেটুকু। তিনি বলেন, একমাত্র সম্বল বাড়ী ভিটেটুকু বিক্রয় করেও চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় আমাদের মতো গরীব লোকের পক্ষে। তিনি আরো বলেন, ডাক্তারা বলছে মাথার টিউমারটি অপারেশন করতে বর্তমানে ব্যয় হবে প্রায় ২ (দুই) লাখ টাকা। এত টাকা আমি পাবো কোথায় ? এখন ভগবানের উপড় সব ছিড়ে দিয়েছি। একদনি হয়ত আমার মানিক সোনা গৌরাঙ্গের জীবন প্রদ্বীপ নিভে এহজগত ছেড়ে পরজগতে পাড়ি জমাবে এভাবেই। কারন যেভাবে মাথাটি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে——–? বলেই থেমে যায় শিশু গৌরাঙ্গের পিতা।

এদিকে সম্প্রতি শিশু গৌরাঙ্গকে প্রতিবন্ধির তালিকায় এনে ডিমলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়েছে একটি হুইল চেয়ার। দিনের বেশীর ভাগ সময় কাটে গৌরাঙ্গের এখন ঐ হুইল চেয়ারে বসে। শিশু গৌরাঙ্গের মা-বাবার আকুতি কোন সহৃদয় ব্যক্তি যদি এগিয়ে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতো, তাহলে হয়ত আমাদের গৌরাঙ্গ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে এ পৃথিবীর আলো-বাতাসের সাথে বেঁচে থাকতো। আলোয় ভরে যেত আমাদের জীবন সংসার। অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়া গৌরাঙ্গের মাথা দেখার জন্য এলাকার শত শত মানুষ ভীর করছে শিশু গৌরাঙ্গের বাড়ীতে।



মন্তব্য চালু নেই