মেইন ম্যেনু

৯ বছর পর মায়ের বুকে ময়না

নয় বছর আগে এক নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। মুখে কোনো কথা নেই তার। কেবল একটি শব্দ- ময়না। উপায় না দেখে পুলিশ তাকে পৌঁছে দেয় একটি হোমে। সেখানেও বারবার মেয়েটি বলে গেছে ময়না আর ময়না। তারপর থেকে তার নাম ময়না হয়ে গেছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

ডাক্তাররা বুঝেছিলেন, ময়না পরিণত মস্তিষ্কের নয়। তার চিকিৎসা শুরু করেন তারা। পরিবার, ঠিকানা কিছুই বলতে পারছিল না সে। হোমের অন্যদের সঙ্গেই কাটছিল তার জীবন। আট বছর ধরে সে নাচ, গান, হাতের কাজ শিখেছে। ময়নার বানানো পাটের রাখি কিনে নিয়ে গেছেন জেলাপ্রশাসক থেকে প্রশাসনের অন্য আধিকারিকেরাও। সেই সঙ্গে সমানে চলেছে চিকিৎসা। সেরেও গেছে ময়না।

গত বছর হঠাৎই গৌর সিংহ মানে তার বাবার নাম বলে ফেলে সে। খোঁজ শুরু হয় এই ক্লু ধরে।

এরপর ময়নার ছবি দিয়ে খোঁজ শুরু হয়। কিছুদিনের মধ্যেই একটি পরিবার জানায়, ময়নার সঙ্গে তাদের হারিয়ে যাওয়া মেয়ের মিল পাচ্ছেন তারা। জেলা প্রশাসনের তরফে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সত্যতা প্রমাণ হওয়ার পরই মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়ার অনুমতি পেয়েছেন ‘ময়না’র মা লক্ষ্মীবালা সিংহ। ময়না আসলে মাতঙ্গিনী সিংহ। বছর দুয়েক আগে মারা যান তার বাবা।

গত বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের তমলুকের ওই হোম থেকে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যান লক্ষ্মীদেবী। তিনি জানান, ২০০৮ সালে ময়না থেকে বাসে করে পিংলায় দিদির বাড়ি যাচ্ছিল মাতঙ্গিনী। কী করে যে সে দিন হারিয়ে গেল! অনেক খুঁজেও পাওয়া যায়নি তাকে। লক্ষ্মীদেবী বলেন, মেয়ে শুধু একটু তোতলাতো। আর কোনো অসুখ ছিল না।

অনেকদিন পরে মায়ের কাছে ফিরতে পেরে খুশি বাঁধ মানেনি মাতঙ্গিনীর। কাগজপত্রে সই-স্বাক্ষরের পালা শেষ করে মাকে জড়িয়ে হোমের দরজা পেরিয়েছে সে। পেছনে বারান্দায় দাঁড়িয়ে চোখের জলে বুক ভাসিয়েছে তার এতদিনের বন্ধু সালমা, নাসিমা, হোমের সুপার আলপনাদি, প্রণতিদিরা।






মন্তব্য চালু নেই