মেইন ম্যেনু

২৭ বছর পর প্রথম বাবার দেখা পেলেন চাঁদপুরের সুমন মিয়া!

জন্মের পর বাবার মুখ দেখা হয়নি সুমন মিয়ার। পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলেন ২৭টি বছর। অবশেষে প্রতিক্ষার অবসান হলো সুমনের। দীর্ঘ ২৭ বছর পর এই প্রথম বাবার মুখোমুখি হলেন তিনি। ঘটনাটি চাঁদপুরের কচুয়ার।

গল্পটা যেমন : ১৯৮৭ সালে চাঁদপুরের কচুয়ায় কোর্ট পুলিশে কর্মরত ছিলেন কনস্টেবল আব্দুল ওয়াদুদ। ওই সময় তিনি পাশের কড়ইশ গ্রামের সিরাজ মিয়ার মেয়ে খোশনে আরা বেগমকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের সময় কনস্টেবল আব্দুল ওয়াদুদ নিজের প্রকৃত ঠিকানা গোপন করেন। বিয়ের কয়েক মাস পর তিনি অন্যত্র বদলি হন।

এ সময় কিছুদিন স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও পরে আর যোগাযোগ রাখেননি ওয়াদুদ। এর কিছুদিন পর খোশনে আরার কোলে আসে এক ছেলেসন্তান। নাম রাখা হয় সুমন মিয়া। মায়ের সঙ্গে তার আশ্রয় মেলে কড়ইশ গ্রামের মামার বাড়িতে। বয়স যখন বাড়তে থাকে তত দিনে সুমন মিয়া জানতে চান তাঁর পিতৃপরিচয়। পরে জানেন, তাঁর বাবা পুলিশ ছিলেন। মা আর স্বজনদের হাত ধরে অনেক জায়গায় বাবাকে খুঁজেছেন। কিন্তু কোথাও পাননি প্রিয় বাবাকে। এভাবে কেটে যায় ২৭ বছর।

সম্প্রতি কচুয়া থানায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ওপেন হাউস ডে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার।

এ সময় নানা অভিযোগ আর পরামর্শ তুলে ধরেন উপস্থিত বিভিন্নজন। তাঁদের মধ্যে হাজির ছিলেন সুমন মিয়াও। তিনি পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চান, তাঁর বাবা পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন, নাম আব্দুল ওয়াদুদ। কর্মস্থল ছিল কচুয়া কোর্টে। চাকরির সময়টাও জানিয়ে দেন তিনি। পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার যুবক সুমন মিয়ার কথা আমলে নিলেন। তিনি চাঁদপুরে ফিরে গত ২৮ বছর চাঁদপুরে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবলদের নথিপত্র ঘাঁটেন।

একপর্যায়ে খুঁজে পান কনস্টেবল আব্দুল ওয়াদুদের প্রকৃত ঠিকানা। এবার বাবার খোঁজে সুমন মিয়া ছুটলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার আগুনকাঠি গ্রামে। সেখানে গত ২০ এপ্রিল খুঁজে পান বৃদ্ধ বাবা আব্দুল ওয়াদুদকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে অবসরে থাকা আব্দুল ওয়াদুদ আরেকজনকে বিয়ে করেছেন। সেই সংসারে তার তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অন্যদিকে সুমন মিয়ার মা খোশনে আরা বেগম ছেলেকে বাবার বাড়িতে ভাইয়ের কাছে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে সংসার করছেন।

এই দীর্ঘ সময় সুমন তাঁর মামা মনির হোসেনের আশ্রয়ে ছিলেন। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা সুমন মিয়া এখন কচুয়া পৌরসভায় চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন। পাঁচ বছর আগে তিনি বিয়েও করেছেন। বর্তমানে তিনি দুই সন্তানের জনক।

কচুয়া থানার ওসি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গত ১১ এপ্রিল ওপেন হাউস ডেতে হাজির হয়ে সুমন মিয়া পুলিশ সুপারের কাছে তাঁর আবেদন তুলে ধরেন। পরে আমরা স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীর সহায়তা নিয়ে সুমন মিয়ার পাশে দাঁড়াই। ’

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ চৌধুরী জানান, তিনি সুমন মিয়াকে পৌরসভায় অস্থায়ীভাবে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজটি করেছি। পিতৃপরিচয়হারা একজন যুবকের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে পেরেছি। ’






মন্তব্য চালু নেই