মেইন ম্যেনু

আয়োজক কৃষক লীগ নেতা

২২ গরু, ৮ খাসি ও ৮০ মণ মাছের ভোজ

প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দাওয়াতের ‘অতিথি’। তাদের ভোজের জন্য জবাই হবে ২২টি গরু আর ৮টি খাসি। সঙ্গে থাকবে ১০০ মণ চালের ভাত, ১০০ মণ আলু ও ৮০ মণ মাছের তরকারি। অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য ২০ একরের একটি ফসলি মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে।

‘বাঙালির শীতকালীন উৎসব ও প্রীতিভোজ’ ব্যানারে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের রোয়ার গ্রামে মঙ্গলবার এই প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। আলোচিত এই প্রীতিভোজের আয়োজক আক্কেলপুর উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হক জিয়া।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল হক গত ইউপি নির্বাচনে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। পরে তিনি তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহসান কবির পরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জিয়াউল হকের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে।

পাশের কাঁঠালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, এত বড় খাওয়ার আয়োজন পুরো জেলায় আগে কখনো হয়নি। অনুষ্ঠানের ব্যয়ের টাকায় ৫০ জন গরিব মানুষের কর্মসংস্থান করা যেত।

আজ সোমবার বিকেলে প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার আলোচিত অনুষ্ঠানটি দেখতে দলে দলে মানুষ আসছে।

অনুষ্ঠান তদারকির দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাত-আটজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দেড় শ বাবুর্চি রান্নার কাজ করবেন। আর আড়াই শ লোক খাবার পরিবেশন করবেন। ৩০ হাজার ওয়ানটাইম প্লেট ও গ্লাস আনা হয়েছে। ২২টি বড় গরু, ৮টি খাসি, ৮০ মণ মাছ, ১০০ মণ আলু ও ১০০ মণ চালের ভাত রান্না হবে। যদি প্রয়োজন পড়ে এ জন্য আপৎকালীন আরও ১০ মণ চাল ও ৫ মণ মাংসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাবুর্চিদের দলনেতা সাইফুল ইসলামের বাড়ি বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার খলিশ্বর গ্রামে। তিনি জানান, ৩০ হাজার লোকের খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে। সোমবার দুপুর থেকে মসলা বাটা ও চুলা নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়েছে।

আক্কেলপুর উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার জীবনের এত বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখিনি। তাই আগের দিন অনুষ্ঠানস্থল দেখতে এসেছেন।’

অনুষ্ঠানের আয়োজক জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘বাঙালির শীতকালীন উৎসব ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে জয়পুরহাট জেলা ও পাঁচটি উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী আমন্ত্রিত অতিথি। সবাইকে পেটপুরে গোশত-ভাত খাওয়ানো হবে।’

জিয়াউল হকের বড় ভাই এস এম মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমার ছোট ভাই জিয়াউল রুকিন্দীপুর ইউপির সদস্য ছিল। গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিল সে। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়। জিয়াউল হক আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবে। ইউপি নির্বাচনে লোকজনকে খাওয়ানোর ওয়াদা করেছিলাম। তাই এই প্রীতিভোজের আয়োজন করেছি।’

অনুষ্ঠানে কত খরচ হচ্ছে জানতে চাইলে এস এম মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘অনেক। কিন্তু আমাদের জন্য সাশ্রয় আছে। ডেকোরেটররা শুধু আনা-নেওয়ার ভাড়া নেবে। আলু-চাল ও মাছ নিজের বাড়ির। শুধু গরু ও মসলা কিনতে হচ্ছে। আমরা সাত ভাই মিলে গরুগুলো কিনেছি।’






মন্তব্য চালু নেই