মেইন ম্যেনু

হিন্দু যুবকের লাশ কাঁধে নিয়ে শ্মশানঘাটে পৌঁছলেন মুসলিমরা

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃশ্য দেখল পশ্চিমবঙ্গের মালদহের মানিকচকের মানুষ। হিন্দু রীতি মেনে এক হিন্দু যুবকের লাশ সৎকার করলেন মুসলিম যুবকরা।

মালদার মানিকচক ব্লকের অধীন শেখপুরা গ্রাম। মুসলিম অধ্যুষিত এই গ্রামে মাত্র কয়েকটি হিন্দু পরিবারের বসবাস। গতকাল মঙ্গলবার এই গ্রামের হিন্দু যুবক বিশ্বজিৎ রজকের মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে জন্ডিসে ভুগছিলেন রজক। নুন আনতে পান্থা ফুরনো পরিবারে বিশ্বজিতের এই আকস্মিক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে তার স্বজনরা। সৎকার করার জন্য আর্থিক অনটনের পাশাপাশি জনবলও ছিল না মৃত রজকের পরিবারের। লাশ কীভাবে সৎকার করা হবে- এ নিয়ে যখন চিন্তায় মগ্ন তার পরিবার, ঠিক সেসময়ই দেবদূতের মত হাজির হলেন গ্রামেরই কয়েকজন মুসলিম যুবক। লাশ সৎকারের সমস্ত দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন তারা। এরপর হিন্দু রীতি মেনেই বাঁশের মাচায় লাশ নিয়ে প্রায় আট কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে মানিকচক শশ্মান ঘাটে পৌঁছান মুসলিম যুবকরা। এমনকি লাশ বহনের সময় কয়েকজন হিন্দু যুবকের সাথে ‘রাম নাম সত্য হে’, ‘বল হরি’ বলতে বলতে শশ্মানে পৌঁছান মুসলিম যুবকরা। এরপর হিন্দুরীতি মেনেই দাহ করা হয় রজকের নিথর দেহ।

নিজের বিপদের দিনে যেভাবে মুসলিম সমাজ এগিয়ে এসেছে তাতে খুব খুশি মৃত বিশ্বজিৎ রজকের ভাই ইন্দ্রজিৎ। তিনি বলেন, ‘শেখপুর গ্রামে আমাদের পরিবারটি হিন্দু। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমরা যখন মানসিকভাবে সকলেই ভেঙে পড়েছিলাম, তখন মুসলিম যুবকরাই এগিয়ে আসেন। সকলে একজোট হয়ে আমার ভাইয়ের লাশ দাহ করার ব্যবস্থা করে। ’

তিনি আরও জানান, ‘দেশজুড়ে যেখানে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিবাদ চলছে সেখানে আমাদের গ্রামে এরকম কোন সমস্যা নেই’।

মহম্মদ আইসিস আলি জানান, ‘আমাদের এই গ্রামে প্রায় ছয় হাজার মুসলিমের বসবাস। গতকাল বিশ্বজিৎ রজক বলে একটি হিন্দু যুবক মারা যায়। তার পরিবারে তিনজন নারী আছে, মা-বাবাও বৃদ্ধ, পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই। এরপরই ওই পরিবারকে সহায়তা করতে মুসলিম সমাজের মানুষ এগিয়ে আসে এবং হিন্দু রীতি মেনেই কাঁধে করে লাশ নিয়ে শ্মশান ঘাটে নিয়ে আসি’।

এরকম একটি ঘটনার খবর জানতে পেরে এলাকায় ছুটে আসেন মালদা জেলা পরিষদের সহসভাপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল। শ্মাশান যাত্রায় পা মেলান তিনিও। শব যাত্রা শেষে তিনি জানান, ‘সারা ভারতকে পথ দেখাতে মানিকচের এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটি নজির।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই