মেইন ম্যেনু

হাজারীবাগে গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন

উচ্চ আদালতের নির্দেশে রাজধানীর হাজারীবাগের সব ট্যানারিতে (কারখানা) বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ চলছে। শনিবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা এই অভিযান পরিচালনা করছেন। এই কাজে সাহায্য করছেন তিতাস ও ডিপিডিসির কর্মকর্তারা।

ডিপিডিসির পরিচালক (অপারেশন্স) এটিএম হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে আমরা অভিযানে অংশ নিচ্ছি। মূলত পরিবেশ অধিদফতরের নেতৃত্বেই বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্নের কাজ চলছে। অন্যান্য সংস্থাগুলো পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সাহায্য করছেন।’

ওই এলাকার বাসিন্দারা অভিযান শুরুর পরপরই নাজেহাল পরিস্থিতিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, হাজারীবাগের সব ট্যানারি ৬ এপ্রিলের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। আদালতের রায়ের কপি হাতে পেলেই অভিযানে নামার কথা জানিয়েছিল পরিবেশ অধিদফতর। সেই অভিযান শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।

হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরিয়ে মালিকরা জরিমানা কমানোর বিষয়ে আবেদন করলে আদালত বলেছিলেন, ‘আগে ৬ এপ্রিল সব ক্লোজ ডাউন করে আসেন। তখন বকেয়া জরিমানার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’ বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) সকালে এক আদেশে রাজধানীর হাজারীবাগে থাকা ট্যানারি কারখানাগুলোর সব কার্যক্রম বন্ধ করার পর, আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে আদালতকে জানাতে বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর ট্যানারিগুলোর জরিমানার বিষয়ে করা রিভিউ আবেদন এবং ১৫৪টি ট্যানারি মালিকের জরিমানা বকেয়া বাবদ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা স্থগিতের বিষয়ে আগামী ৯ এপ্রিল শুনানি গ্রহণ করবেন আদালত।

এর আগে ১৯ মার্চ ১৫৪টি ট্যানারির মালিককে বকেয়া বাবদ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ জরিমানা পরিশোধের আদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।

২ মার্চ ১৫৪টি ট্যানারি কারখানাকে বকেয়া বাবদ ৩০ কোটি ৮৫ লাখ জরিমানা দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন হাইকোর্টে আবেদন করেন।

আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে হাজারীবাগে ট্যানারি প্রতিষ্ঠান চালু রাখায় ১৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছিলেন হাইকোর্ট। গত ১৮ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ১৬ জুন বিচারপতি সৈয়দ মোহম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ট্যানারি মালিকদের পরিবেশের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রদানের নির্দেশ দেন।






মন্তব্য চালু নেই