মেইন ম্যেনু

হাওর তীরে এখনও পঁচা ধান নিয়ে চলছে মানুষের সংগ্রাম

এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে অকাল বন্যার এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শতভাগ বোরো ধান। একমাস পরও যদি কিছু ধান পাওয়া যায় এই আশায় পঁচা ধান নিয়ে চলছে হাওর তীরের কৃষকের সংগ্রাম।

রোববার হাকালুকি হাওর ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। তবে পঁচা ধান প্রক্রিয়াজাত করে খেলে কোন সমস্যা হবে না বলে নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ।

হাকালুকি হাওর তীরের ভুকশিমইল ইউনিয়নের গৌড়করণ গ্রামের রেনু বেগম (৫৫) জানান, আশা করছিলাম, কিছু যদি পাই। মানুষ দিয়ে পেড়া (পঁচা) ধান দাওয়াইয়া (কাটিয়ে) তুলছিলাম (তুলেছি)। কিন্তু দেখ শতও (শতকরা) দশটা ধান নাই। রাস্তার ওপর ধান পরিষ্কার করতে করতে, কি খাবেন সারা বছর- এই দুঃশ্চিন্তায় কেঁদে ফেলেন তিনি।

একই গ্রামের তুতা মিয়া (৬০) ও সুবেল আহমদ (৩৫) জানান, গত ২-৩ দিন থেকে রোদ থাকায় নৌকা দিয়ে পানির নীচ থেকে ধান তুলে এনে প্রথমে রোদে শুকানো হয়। তারপর ঝেড়ে যদি কিছু ধান পাওয়া যায়, এই আশায় তারা পরিশ্রম করছেন।

ছকাপন গ্রামে গেলে দেখা যায়, হাওরের যাওয়ার সড়কে নারী পুরুষ সবাই পঁচা ধান নাড়াচাড়ায় ব্যস্ত। পুলীন মালাকার (৩৮), প্রবাস মালাকার (৫২), সুনীল মালাকার (৪৫) জানান, বোরো ক্ষেত থেকে সারা বছরের খাবারের ধান মজুত রেখে বাকিটা বিক্রি করেন। এই বোরো ক্ষেত দিয়ে পরিবারের আয় রোজগার। এবার তো খাবারই জুটবে না। ফলে পরিবার পরিজনের সারা বছরের অন্নের সংস্থান কিভাবে হবে তা নিয়ে পড়েছেন দুঃশ্চিন্তায়।

বড়দল গ্রামের পবিত্র দাস (৬৫) জানান, ভাতিজা শান্তকে নিয়ে হালের লাঙল নিজের কাঁধে টেনে বীজতলা প্রস্তুত করি। সেই কষ্টের ফসল পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। পঁচা ধান তুলে এনে পাকা রাস্তায় স্বামী-স্ত্রী মিলে ধান বের করার চেষ্টা করছি।

ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণের কথা বলতেই তারা সবাই অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান মেম্বাররা আগে তাদের পছন্দের আর তাদের যারা ভোট দিয়েছে, সেই মানুষকে দেয়া শেষ করলে যদি তাদের দয়া হয় তাহলে দিতে পারেন। অতি দরিদ্রদের তালিকায় থাকা লোকজনের কপাল খুলেছে। তারা টাকায় ভোট দেয়। সারাবছরে ভিজিএফ, ভিজিডি, বিভিন্ন ভাতা ভোগ করে। আবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণও তারা আগে পায়। এখনও সর্বস্ব হারা প্রকৃত কৃষকের হাতে ত্রাণ পৌঁছায়নি।

ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির ও মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, ত্রাণ দেয়ার জন্য তিন ক্যাটাগরিতে মানুষের তালিকা করা হয়েছে। অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও বিত্তবান ক্ষতিগ্রস্থ। তারা সকল ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

পঁচা ধান তুলে তা শুকিয়ে খাবার উপযোগী হবে কিনা জানতে চাইলে কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জগলুল হায়দার জানান, আসলে শুকিয়ে খাবার উপযোগী করে খেলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কেননা ধান পঁচেছে প্রাকৃতিক নিয়মে। মূলত ধান পঁচে গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছিলো। ফলে ধান নিয়ে আশংকার কোনো কারণ নেই।






মন্তব্য চালু নেই