মেইন ম্যেনু

হঠাৎ পাওয়া টাকা মালিককে খুঁজে ফেরত দিলেন শিক্ষার্থী

সুমিয়ারা খাতুন কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন বাজারে। কেনাকাটা শেষে বান্ধবীর বাড়ি গিয়ে দেখেন শপিং ব্যাগে এক লাখ টাকা। ব্যাগের গায়ে থাকা নম্বরে ফোন দিয়ে মালিক খুঁজে বের করলেন তিনি। যাচাই-বাছাই শেষে সেই টাকা বুঝিয়ে দিলেন মালিককে।

বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সুমিয়ারা খাতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সুমিয়ারা খাতুন জানান, বুধবার তিনি কেনাকাটা করতে নগরের সাহেববাজারে যান। সেখান থেকে বেশ কিছু কেনাকাটা করেন। একপর্যায়ে তাঁর হাতে অনেকগুলো ব্যাগ হয়ে যায়। সেগুলো নিয়ে তিনি তাঁর এক বান্ধবীর বাড়িতে যান। সেখানে বান্ধবীর ছেলের জন্য কেনা জামা বের করতে গিয়ে একটি শপিং ব্যাগে এক লাখ টাকা দেখতে পান। অনেক চিন্তাভাবনা করে তিনি ওই শপিং ব্যাগে থাকা মোবাইল নম্বরে কল করে জানতে চান, তাঁদের কিছু হারিয়েছে কি না? তাঁরা জানান, তাঁদের কিছু হারায়নি। পরে তিনি বিষয়টি বিভাগের এক শিক্ষককে জানালে তিনি পুলিশ অথবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে জানাতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ওই দোকানদার ফোন করে জানান, তাঁদের এক লাখ টাকা হারিয়েছে। তাঁরা টাকার প্রমাণ দিতে পারায় আজ তাঁদের বিভাগে আসতে বলা হয়। শিক্ষকদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই শেষে বেলা ১১টার দিকে টাকাটা মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সুমিয়ারা জানান, নগরের আরডিএ মার্কেটের উষা ফ্যাশনে তিনি কেনাকাটা করেছিলেন। সেখান থেকেই টাকার ব্যাগটি কীভাবে যেন তার অন্য ব্যাগের সঙ্গে চলে এসেছিল।

সুমিয়ারা বলেন, ‘টাকার মালিকের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া আমার দায়িত্ব ছিল। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। টাকা তার মালিককে দিতে পেরে আমি মনে প্রশান্তি পাচ্ছি।’

বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা নিতে এসে আশরাফুল আলম বলেন, ‘ওই ম্যাডাম নিজে ফোন না করলে আমি হয়তো আর আমার টাকা পেতাম না। আমি তাঁকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তাও নেননি। মানুষের কেমন হওয়া উচিত আমি ওনার কাছে শিখেছি। আমি ওনার কাছে কৃতজ্ঞ।’






মন্তব্য চালু নেই