মেইন ম্যেনু

সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্য সংরক্ষণে ‘বিশেষ নিরাপত্তা’

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত বহুল আলোচিত জাস্টিশিয়া ভাস্কর্যের সংরক্ষণের জন্য সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ পরিচয়ধারী ছাড়া কাউকেই ভাস্কর্যের আশপাশে দাঁড়াতে বা ছবি তুলতে দেওয়া হচ্ছে না।

সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ভাস্কর্য স্থাপনের পর থেকেই এর সংরক্ষণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত(প্রশাসনিক বিভাগ)। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তবে অতি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের সামনে এই ভাস্কর্যটি নিয়ে সমসাময়িক বেশ কিছু আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে এর নিরাপত্তায় আরো বেশি সতর্ক হতে দেখা গেছে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাম্প্রকি বেশ কিছু ইসলামী দলের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ভাস্কর্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো একধাপ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ভাস্কর্যের বিশ গজের কাছাকাছি দুইজন পুলিশ কনস্টেবলকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখা হয়েছে। এমনকি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমেও ভাস্কর্যের আশপাশের পরিস্থিতি সব সময়ই সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

তাই সাধারণ পোশাকধারী যে কেউ চাইলেই ভাস্কর্যের কাছাকাছি দাঁড়াতে বা সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সুযোগ পাচ্ছে না। এমনকি ভাস্কর্যের আশপাশে সন্দেহভাজন মনে হলেই তাকে তল্লাশি করছে পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট সাব কন্ট্রোল রুমের এসআই মোশাররফ হোসেন জানান, ‘ভাস্কর্য স্থাপনের পর থেকেই এর নিরাপত্তার বিষয়ে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এছাড়াও আমাদের (পুলিশের) উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন মিটিংয়ে বসলে তারাও ভাস্কর্যটির নিরাপত্তায় সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দিয়েছেন’।

তিনি আরো বলেন, ‘ভাস্কর্য স্থাপনের পর থেকেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তবে অতি সম্প্রতি সেখানে দুজন কনস্টেবলকে ভাস্কর্যের সংরক্ষণে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সেখানে (সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকে) প্রায় চল্লিশজনের বেশি পুলিশ দায়িত্ব পালন করে থাকে। তাদেরকেও অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এই ভাস্কর্যের বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। আর সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য ফটকের নিরাপত্তা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে’।

এদিকে, গত ২১ এপ্রিল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ভাস্কর্যের নিরাপত্তায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। ওইদিন রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে জুমার নামাজ শেষে পূর্বঘোষিত এক সমাবেশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

সমাবেশের মাধ্যমে আসন্ন রমজান মাস শুরুর আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যটি সরানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ সময়ের মধ্যে সরানো না হলে ১৭ রমজান সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করবে দলটি।

এছাড়াও হেফাজতে ইসলাম ও বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ থেকেও সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানোর বিষয়ে একাধিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে কয়েক দফা চিঠি দিয়েও কোনো উত্তর পায়নি এই ইসলামী দলগুলো।






মন্তব্য চালু নেই