মেইন ম্যেনু

একরাম হত্যা

সুনাম কুড়াতে মরিয়া র‌্যাব

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আটজনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। অপর আরেকজনকে ফেনী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুধু তাই নয়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু।

র‌্যাব-১ এর কর্মকর্তাদের তৎপরতায় দ্রুত এসব আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন ঘটনায় র‌্যাবের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও ফেনীর ভূমিকা প্রশংসনীয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। র‌্যাব-১ এর কারণে ফেনীর হত্যাকাণ্ডের খুব শিগগিরই রহস্য উদঘাটন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একরামের ওপর প্রথম গুলিবর্ষণকারী ছাত্রলীগ নেতা আবিদুল ইসলাম আবিদ র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন। তিনি ফেনীর সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর মামাতো ভাই। আবিদের মা ফেনী মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া অন্যরা হচ্ছেন- হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছাত্রলীগ নেতা কাজী শাহহান মাহমুদ, জাহিদুল ইসলাম সৈকত, মো. জিহাদ, শাহজালাল উদ্দিন শিপন, চৌধুরী নাফিজউদ্দিন অনীক, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারি সিফাত, হেলাল উদ্দিন ও জিহাদ চৌধুরী।

এদের জিজ্ঞাসাবাদে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলুর নাম আসায় তিনি গিয়ে ফেনী থানায় আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

গত ২০ মে হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২১ ও ২২ মে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হচ্ছেন- ফেনী সদরের শর্শদী ইউনিয়নের আলা উদ্দিন, বালিগাঁও ইউনিয়নের মধুয়াই গ্রামের আনোয়ার হোসেন, বিরিঞ্চি এলাকার ইকবাল হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন।

অপরদিকে, শনিবার ফুলগাজী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন ও ফকির মিয়া নামে আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত পাঁচদিনে আটক করা হয়েছে ২৩ জন। ঘটনায় সম্পৃক্ত ছাড়া সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘প্রয়োজনে জয়নাল হাজারীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে যারা হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ত নন তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপরহরণ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার জন্য অভিযোগের আগুল ওঠে র‌্যাবের দিকে। ঠিক ২৩ দিন পর ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

এ দুই হত্যাকাণ্ডেই প্রতিপক্ষ দলীয় নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ওঠে র‌্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে ফেনীর ঘটনায় র‌্যাবের তৎপরতায় দ্রুত গ্রেপ্তার হয় মূল অভিযুক্তরা।

র‌্যাবের এ ভূমিকা নিয়ে আশাবাদী নিহত একরামুল হক একরামের স্বজন ও সমর্থকরা।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে ফেনীর একাডেমি এলাকার বিলাসী সিনেমা হলের সামনে প্রকাশ্যে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরামকে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ও গাড়িচালকও অগ্নিদগ্ধ হন।






মন্তব্য চালু নেই