মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ নিয়ে হতাশার অন্ত নেই

মোঃ বদরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তির্ণ জনপদের আশার আলো সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সাতক্ষীরাবাসীর আশা ছিল, পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে দুটি পূরণ করতে পারবে এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে জনগণ কেবল হতাশাই পেয়ে চলেছে।

২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর আঃলীগ সরকারের নব গঠিত মন্ত্রী সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রালয়ের দায়িত্ব পান সাতক্ষীরা ৩ আসনের নির্বাচিত সাংসদ, ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক। এর পর মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে পূর্ণতা দিতে এবং দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সাতক্ষীরাবাসীকে তিনি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ নির্মানের প্রতিশ্রুতি দেন। উক্ত প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২০১২ সালের ১৩ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৫৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের পথ চলা। সাতক্ষীরার কাটীয়াতে তৈরী হয় কলেজের অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন। এর কিছুদিনের মধ্যেই সাতক্ষীরা-কালিজঞ্জ মহাসড়কের আলীপুর চেকপোস্ট সংলগ্ স্থানে শুরু হয় কলেজের স্থায়ী ভবন নির্মানের কাজ। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে নির্মান কাজ সমাপ্ত হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

অতপরঃ চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনে পূনরায় আঃলীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরককার ক্ষমতায় আসলে, সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হলেও মন্ত্রীত্ব হারান ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক। এবং তার নামে মেডিকেল কলেজ নির্মান কে কেন্দ্র করে অর্থ বাণিজ্য সহ অনেক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সাথে সাথে মেডিকেল কলেজের অসমাপ্ত নির্মান কাজ যা ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল, তাও বিলম্বিত হতে থাকে। কলেজের প্রশাসনিক ভবনটির নির্মান কাজ শেষ হয়ে আসলেও অসমাপ্ত রয়ে যায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মানের কাজ। ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য ৪ মাইল দুরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যেতে হতে থাকে। এবং তা আজও একই অবস্থায় আছে। উক্ত সমস্যা থেকে মুক্তি সহ আরও অনেক দাবি নিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীরা গত জুলাই মাসের ৫ তারিখে সড়ক অবরোধ সহ মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এবং সেই সাথে মেডিকেল কলেজ বন্ধের ঘৃন্য ষড়যন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রচার হতে থাকে। গত ৪ ঠা আগস্ট, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাতক্ষীরা ইউনিটের আয়োজনে জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় এই ঘৃন্য ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আরও কিছু কর্মসূচি ও ঘোষনা করা হয়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরাবাসী গভীর হতাশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ সর্বস্তরের জনগণের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ নিয়ে সকল আশার আলো ম্লান হতে শুরু করেছে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন, দোরগোড়ায় পৌছে যাওয়া উন্নত চিকিৎসা ও শিক্ষা সেবার স্বপ্ন কি কখনই পূরণ হবেনা সাতক্ষীরাবাসীর?






মন্তব্য চালু নেই