মেইন ম্যেনু

সাতক্ষীরার রপ্তানিযোগ্য টালি শিল্পে ধ্বস, প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের কাটছে মানবেতর জীবন

আব্দুর রহমান, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মূরালিকাটি,শ্রিরামপুর ও মির্জাপুর এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশত টালি কারখানা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শহজশর্তে ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টিতে সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার না হওয়া, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাময় এই টালি শিল্প মুখথুবড়ে পড়েছে। অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে টালি শিল্পের সাথে জড়ীত প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি পৃষ্টপোষকতা না পেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সম্ভাবনাময় এই শিল্প অচিরেই ধবংস হয়ে যাবে বলে মনে করছে টালি শিল্প মালিক ও শ্রমিকরা।
জানাগেছে, বিগত ২০০০ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মূরালিকাটি পালপাড়া এলাকায় প্রথম শুরু হয় বিদেশে রপ্তানিযোগ্য নানা প্রকারের টালি উৎপাদন। শুরুতেই ৫টি টালি কারখানায় উৎপাদিত টালি ইটালিতে রপ্তানি শুরু করে এখানকার টালি কারখানা মালিকরা। এ কারনে এই এলাকা ‘ইটালী নগর’ হিসিবে পরিচিতি লাভ করে।
দুই বছর যেতে না যেতেই এখানকার উৎপাদিত টালি নজর কাড়ে বেশ কয়েকটি দেশের। একে একে দুবাই,মালেশিয়া, দক্ষিণ আফরিকা,নেদারল্যান্ড ও আমেরিকায় জাহাজে করে রপ্তানি শুরু হয় এখানে উৎপাদিত নানা প্রকার টালি। চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে টালি কারখানার সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বর্তমানে প্রায় ৫০টি টালি কারখানা গড়ে উঠেছে কলারোয়ার মূরালিকাটি,শ্রিপতিপুর ও মির্জাপুর এলাকায়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এখানে।
কলারোয়া টালি কারখানা মারিক ব্যবসায়ি সমবায় সমিতির সভাপতি গোষ্ট চন্দ্র পাল বলেন, ২০১০ সাল পর্যন্ত টালি শিল্প মালিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ ভালই দাম পেয়েছে। প্রতিটি টালি ৩০ থেকে ৬০ টাকা হারে বিক্রি করে তারা। প্রতিবছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় এই শিল্প থেকে। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে এই শিল্পে ধ্বস নামতে শুরু করে। স্থানীয় টালি কারখানা মালিকদের মধ্যে অনৈক্য, নিজেদের মধ্যে রেসারেসি, বেঁচা-বিক্রির অসমপ্রতিযোগিতা শুরু হয়। এই সুযোগ লুফেনেয় বিদেশি বায়াররা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে টালির দাম কমতে শুরু করে, অথচ দিন দিন উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকে। যে টালি আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হতো , বর্তমানে তার দাম কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা। বর্তমানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে তার চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। লোকশানের কারনে অর্ধেকেরও বেশি টালি কারখানা বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার টালি রপ্তানি হচ্ছে। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
সমিতির সাধারন সম্পাদক শেখ ইমাদুল ইসলাম জানান, শহজশর্তে ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টিতে সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার না হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বিক্রি মূল্যের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের লোকশান হচ্ছে। এসব কারনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাময় এই টালি শিল্প আজ মুখথুবড়ে পড়ছে।
কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন বলেন, শহজশর্তে সরকারি ঋণ সহায়তা, জরুরী ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টিতে সরকারি উদ্যোগ গ্রহন করা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদিত টালির মান নিশ্চিত করা গেলে সম্ভবনাময় এই শিল্প থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করবে এমনটিই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই