মেইন ম্যেনু

সাংবাদিকের সাথে পুলিশ চরম দূর্ব্যবহার

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আসামী ধরাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বেধরক মারপিটে মহিলাসহ আহত ১০/১২জন

কলারোয়ার কেঁড়াগাছিতে আসামী ধরাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বেধরক মারপিটে মহিলাসহ আহত হয়েছে ১০/১২জন ব্যক্তি। ঘটনার পর সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়াকে ঘিরে সেখানে অবস্থানরত এক সাংবাদিকের সাথে পুলিশ চরম দূর্ব্যবহার করেন। আহতদের মধ্যে ৩মহিলাকে গুরুতর অবস্থায় কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা নারী মুক্তিসংসদের সভানেত্রীসহ বিশিষ্ট রাজনীতিকরা। আমাদের কেঁড়াগাছি প্রতিনিধি খালেকুজ্জামান পলটু জানান, বৃহষ্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেঁড়াগাছি গ্রামের আ.রশিদের ছেলে একাধীক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী আ. আলিমকে থানা পুলিশের একটি দল আটক করতে তার বাড়িতে যায়। এসময় আলিমের মা ও স্ত্রী পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করার একপর্যায়ে আটক আলিম বাড়ির পাশেই সীমান্তবর্তী সোনাই নদীতে ঝাপ মেরে ভারত সীমান্তে চলে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত হলে পুলিশ তাদের বেধরক মারপিট করে। এসময় আহত হন ওই গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মুক্তিযোদ্ধা হারুন গাজীর মেয়ে ফতেমা খাতুন (৩৫), জামাত আলীর স্ত্রী জাহানারা খাতুন (৩০), মৃত মুনছুর আলীর স্ত্রী নূর নাহার (৩২), আঙ্কুরা খাতুন (৩৪), মিন্টু (৩৮), মিলন (১৫)সহ ১২/১৩ জন ব্যক্তি। তাদের মধ্যে গুরুতর আহতবস্থায় ফতেমা খাতুন, জাহানার খাতুন ও নূর নাহারকে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভূট্টোলাল গাইন, কাকডাঙ্গা বিওপির সুবেদার শেখ ফয়েজউদ্দীন ঘটনাস্থলে যান। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন, জেলা পুলিশের এএসপিসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আহত হওয়ার খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফতেমা খাতুনসহ আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন, সাতক্ষীরা জেলা নারী মুক্তি সংসদের সভানেত্রী নাসরিন খান লিপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনা বিলকিস ময়না, সেজুতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশু, ডেপুটি কমান্ডার আবু বক্কর ছিদ্দিক, শওকাত আলী, রবিউল ইসলাম, অধ্যক্ষ আ. ওহেদ, কলারোয়া ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আ. রউফ, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যপক ইদ্রিস আলী প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন ও তাদের সমবেদনা জানান। এ বিষয়ে থানায় কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী আ. আলিমকে পুলিশ কেঁড়াগাছিতে তার বাড়ীর পাশ থেকে আটক করে। পরে এলাকার বহু মহিলারা জড়ো হয়ে আ. আলিমকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য চার দিক থেকে পুলিশকে ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আলিমকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে লাঠিচার্জ করে। এতে ৪/৫ জন মহিলা সামান্য আঘাত প্রাপ্ত হয়। খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊদ্ধর্তন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের উপর হামলা ও আসামী ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এএসআই নজিবুর রহমান বাদী হয়ে আলিম, সেফালী, আছিয়া, ফতেমা, নূর জাহান, হাজেরা, তাসলিমা খাতুন, নাজমা, রাশিদা, জামিলাসহ ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা (নং-১৫/১৪) দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। এদিকে, আহতরা জানান, পুলিশ বিনা কারণে তাদের উপর হামলা করেছে। ঘটনার সময় তারা ওই স্থানে ছিলো না। পুলিশের কাছ থেকে আলিমকে ছাড়িয়ে নিয়েছে শুনে তার ওই স্থানে যায়। এ সময় থানার একটি গাড়ি থেকে পুলিশ নেমে কোন কারণ ছাড়াই তাদেরকে বেধরক মারপিট করে। ঘটনার পর পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার সময় কলারোয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কেঁড়াগাছির গ্রামের খালেকুজ্জামান পলটু সেখানে উপস্থিত হয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার বিষয়টির আপত্তি জানালে পুলিশ তার সাথে চরম দূর্ব্যবহার করে। তিনি জানান, একটি মাইক্রোবাস ও দুটি মোটরসাইকেল যোগে ১জন ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ কর্মকর্তা থাকলেও তার সাথে সাদা পোশাকে আরো কয়েক ব্যক্তি ওই অভিযানে অংশ নেয়।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই