মেইন ম্যেনু

সাঁওতাল পল্লীতে আগুন: প্রতিবেদনের ওপর আদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য সরাসরি জড়িত মর্মে হাইকোর্টে দাখিল করা বিচারিক প্রতিবেদনের বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া আদালত গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া ওই প্রতিবেদন ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মামলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সরবরাহ করতে বলেছেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণাদেব নাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও সামিউল আলম সরকার। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত মর্মে সোমবার হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টে ৬৫ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদন দাখিল করেন গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনার জন্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি এবং ওই ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য দায়ী। এ আগুন লাগানোর ঘটনায় দু’জন পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবি সদস্য সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রদর্শিত ভিডিও ক্লিপ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, কিছু পুলিশ সদস্য এবং দু’জন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। আরো কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন যারা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেননি। তবে তারা আগুন নেভানোর চেষ্টাও করেননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চামগাড়ী বিল ও কুয়ারমারা নামক স্থানে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে। সাহেবগঞ্জ ও হরিণমারী এলাকায় আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা অনুমানিক ৭টার পরে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এবং হাজার হাজার জনতার উপস্থিতি দেখে বসতি স্থাপনকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে আগুন লাগানোর আগেই নির্মিত স্থাপনা থেকে অনুমানিক ৫০০-৬০০ গজ দূরে মাদরপুর ও জয়পুরগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল মর্মে সাক্ষীদের বক্তব্যে সুস্পষ্ট হয়েছে। ফলে এরূপ প্রেক্ষাপটে সাক্ষীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত স্থানীয় অপরাধীদের সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত করতে পারেননি। তাছাড়া কোনো কোনো সাক্ষী তাদের জবানবন্দিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেও তাদের উপস্থিতির বিষয়টি বর্ণিত প্রেক্ষাপটে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পোশাক পরিহিত থাকায় সাঁওতালদের স্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের গুলির আওয়াজে আতঙ্ককগ্রস্ত হয়ে সাঁওতালরা তাদের স্থাপনা ছেড়ে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে গ্রুপটি খামারের ভিতর দিয়ে প্রবেশ করেছিল তারাই চামগাড়ী বিলে সাঁওতালদের নির্মিত স্থাপনার কাছে যায়। পেন ড্রাইভে প্রদত্ত ভিডিও ক্লিপগুলেঅ পর্যবেক্ষণে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতাল ও মসুলমান সাক্ষীদের পর্যালোচনায় দেখা যায়, চামগাড়ী বিলে নির্মিত স্থাপনা থেকে সাঁওতালরা চলে যাওয়ার পর আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবির পোশাক পরিহিত সদস্য এবং সাধারণ পোশাকধারী দুই জন ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ওই গ্রুপটির মধ্যে পুলিশ লেখা পোশাকধারী দু’জন, ডিবি লেখা পোশাকধারী একজন ও সাধারণ পোশাকধারী দু’জন (লাল ও সাদা রং এর শার্ট পরিহিত) ব্যক্তিকে সক্রিয়ভাবে চামগাড়ী বিলে সাঁওতালদের স্থাপনায় আগুন লাগাতে দেখা গেছে। অপরদিকে কুয়ামারা, সাহেবগঞ্জ ও হরিণমারী এলাকায় সাঁওতালদের নির্মিত স্থাপনায় কতিপয় স্থানীয় জনতা আগুন লাগিয়েছেন।

এর আগে ১৪ ডিসেম্বর গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগে পুলিশ জড়িত কি না সে বিষয়ে তদন্তের জন্য গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

ওই নির্দেশ মোতাবেক গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘটনার তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।






মন্তব্য চালু নেই