মেইন ম্যেনু

`সব তলিয়ে গেছে, এখন আর রোদ উঠে লাভ কী?’

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন রোদ উঠেছে ঠিকই কিন্তু লাভ কী, সব ধান পচে গেছে। এখন ধান নয়, নাড়া শুকাচ্ছি। হাওর থেকে কেটে আনা পচা ধানগুলো রোদে ছড়াতে গিয়ে কথাগুলো বলছিলেন পাকশিমুল হাওর অঞ্চলের আমেনা বেগম ও ফুলবানু। শুধু আমেনা ও ফুলবানুরাই নয় তাদের মতো এমন আক্ষেপ বইশ্বর, লোপাড়া, কালিশিমুল এলাকার কৃষকদের।

শাপলা হাওরে আধাপাকা পচা ধান কেটে নিয়ে আসা আরব আলী,মুরজান মিয়া, আলফু মিয়া ও ইজ্জত আলী জানান, সব শেষ হয়ে গেছে। এবারের মতো পানি গত ৩০ বছরে দেখিনি। এখন কৃষি অফিসের কেউ আমাদের খবর নেয় না। হাওরে তাদের ছায়াও দেখিনি।
তারা আরও জানান, ধানগুলোর ভেতরে চাল নাই। শুধু মনকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ধানগুলো কেটে এনেছি।

চলতি বছরের বৈশাখ শুরুতে অতি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে শুরুতে ২০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায়।পরে অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১ হাজার ৮৪০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। বুধবার (২৬ এপ্রিল) বিকালে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার নাসিরনগর, সরাইল, বিজয়নগর, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার অন্তত ৫ হাজার ৪৫০ হেক্টর বোরো ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু নাছের বলেন, ‘পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ৫ হাজার ৪৫০ হেক্টর বোরো ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি না হলেও এখানকার অন্তত ২০ হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু নাছের আরও বলেন, ‘ বুধবার বিকালে জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান,পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাসিরনগর হাওর অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। এসময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলেন।’






মন্তব্য চালু নেই