মেইন ম্যেনু

শুধু বয়সের কারণেই দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হয় না!

আমাদের শরীরের সবচেয়ে মূল্যবান অংশটিই হচ্ছে চোখ।

এজন্য চোখের যত্ন নেয়া উচিৎ নিয়মিত। দৃষ্টিশক্তি ছাড়া আমরা ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ি। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে শুরু করে এই বিষয়টিতে কোন দ্বিমত নেই এবং তখন রিডিং গ্লাসের প্রয়োজন হয়।

কিছু অভ্যাস এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণেও হয়ে থাকে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা। শুধু বয়সের কারণেই দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হয় না!

চলুন তাহলে জেনে নিই বয়স ছাড়া অন্য যে কারণগুলোর জন্য আপনার দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হতে পারে:

১। দীর্ঘসময় কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে

অনেকক্ষণ যাবৎ কন্টাক্ট লেন্স পরে থাকা চোখের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। এছাড়া লেন্সে ধুলো-ময়লা, শ্লেষ্মা এবং প্রোটিন জমতে পারে।

এর ফলে চোখে সংক্রমণের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আপনার দৃষ্টিশক্তির সুরক্ষার জন্য চোখ ভালো করে পরিষ্কার করুন এবং দীর্ঘক্ষণ কন্টাক্ট লেন্স পরে থাকবেন না।

২। অপারেশন

লেজারের মাধ্যমে চোখের দৃষ্টিশক্তি ঠিক করার অপারেশনের সময় চোখের ভেতরের টিস্যুকে সামান্য পুড়িয়ে থাকেন চক্ষু চিকিৎসক কর্নিয়াকে পুনরায় সঠিক আকার দেয়ার জন্য। এর ফলে কর্নিয়ার স্নায়ুর ক্ষতি হয়।

লেজার অপারেশনের পরের প্রথম মাসে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। অপারেশনের পরেও চোখের যত্ন নেয়া প্রয়োজন এবং নিয়মিত চেকআপ করানো প্রয়োজন।

৩। গ্লুকোমা

যদি আপনি মনে করে থাকেন যে গ্লুকোমা শুধু বয়স্ক মানুষদেরই হয়ে থাকে তাহলে তা ভুল। এটি যেকোন বয়সের মানুষেরই যেকোন সময় হতে পারে।

গ্লুকোমা হলে চোখের ভেতরে তরল জমা হয় যা অপটিক নার্ভ এর উপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা তৈরি হয়। এই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো উচিৎ।

৪। রক্তচাপের ঔষধ

যদি আপনি রক্তচাপ এবং বিষণ্ণতার সমস্যার জন্য ঔষধ সেবন করেন তাহলে আপনার চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ঔষধ সেবন করেন যারা তাদের ও দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে।

৫। কম্পিউটারে কাজ করা

বেশীরভাগ মানুষই দিনে ৪০০ মিনিট কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং ট্যাবলেট এর স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে। এর ফলে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন (ডিআইএস) হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ।

ফলে চোখ ক্লান্ত হয়ে যায় এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার সমস্যা হয়। এছাড়াও স্ক্রিনের দিকে বেশীক্ষণ তাকিয়ে থাকতে থাকতে খুব কম চোখের পাতা ফেলা হয়, যার ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং চোখে যন্ত্রণা হওয়ার সমস্যা তৈরি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডিজিটাল ডিভাইস যারা ব্যবহার করেন তাদের চোখের পাতা ফেলার পরিমাণ ৭০ শতাংশ কমে যায়। এজন্য যারা কম্পিউটারে কাজ করেন তাদের প্রতি ২০ মিনিট পর পরই ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকানো বা চোখ বন্ধ করে রাখা উচিৎ।

৬। গর্ভাবস্থা

গর্ভাবস্থায় একজন নারী দৃষ্টিশক্তির সমস্যা যেমন- ঝাপসা দৃষ্টি ও দ্বৈত দৃষ্টির সমস্যায় ভুগতে পারেন। গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে চোখের কর্নিয়ার পেছনের তরলে পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে কর্নিয়ার আকার ও ঘনত্বে পরিবর্তন সৃষ্টি হয়।

এজন্য কিছু নারীর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে। যা সন্তান প্রসবের পরে পুনরায় ঠিক হয়ে যায়। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলে ঝাপসা দৃষ্টির সমস্যা তৈরি হয়।-বোল্ডস্কাই ও প্রিভেনশন






মন্তব্য চালু নেই